আগামী দিনের বাংলাদেশকে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কোরআনের হাফেজদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
শনিবার রাজধানীর শ্যামলীর বাদশা ফয়সাল ইনস্টিটিউটে পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত ‘হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর মোহাম্মদপুর জোনের বাছাই পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “আমরা বাংলাদেশের ঘর থেকে পার্লামেন্ট পর্যন্ত কোরআনের আইন চাই। আমরা চাই, কোরআনের আইনে এই বাংলাদেশ চলবে। এই বাংলাদেশ হবে কোরআনের বাংলাদেশ।”
তিনি বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশকে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কোরআনের হাফেজদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কনিষ্ঠ হাফেজদের শুধু মসজিদ-মাদ্রাসার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিভিন্ন সুন্নাহ নিয়ে আলোচনা করে সেলিম উদ্দিন মুসলিম জীবনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, প্রতিযোগিতার তিন গ্রুপের নয়জন বিজয়ীকেই ওমরাহ করানো হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, আমাদের প্রিয় জন্মভূমি আল্লাহর দেওয়া কোরআনের বিধি-বিধানের আলোকে চলবে।”
আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন আলেম-ওলামারা, কেউ তা ঠেকাতে পারবে না।”
শায়খ আবদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সহকারী সম্পাদক ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি আয়োজকদের প্রশংসা করে বলেন, “আমরা যদি আমাদের সর্বত্র কোরআনের মাধ্যমে পরিচালিত করতে পারি, তাহলে সমাজে যে অনাচার রয়েছে, সেসব অনাচার থেকে আমরা মুক্তি পাব।”
তিনি বলেন, মসজিদের শহর ঢাকা বলা হলেও ইনসাফের অভাবে মানুষ জুলুমের শিকার হচ্ছে এবং নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মসজিদের এই নগরীতে আলেম-ওলামারা ঐক্যবদ্ধ হলে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ড. রেজাউল করিম বলেন, “আমরা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে ঢাকা উত্তরে নির্বাচিত করে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ।”
দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় ক্ষুদে হাফেজদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও কোরআন তিলাওয়াতে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপগুলোতে নির্বাচিত প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।