হোম > ধর্ম ও ইসলাম

শরীরে উলকি অঙ্কন ও কালো খেজাব ব্যবহার

আপনার জিজ্ঞাসা

মাওলানা দৌলত আলী খান

আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির মধ্যে মানবজাতিই সর্বশ্রেষ্ঠ। তাদের মধ্যে কালো-ফরসা, অন্ধ-কানা, প্রতিবন্ধী ও কুৎসিত চেহারার মানুষও রয়েছে। এরপরও সবাই মানুষ হিসেবে শ্রেষ্ঠ জাতি। মানুষকে আল্লাহ তায়ালা সুন্দর আকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। যে আকৃতিতে মানুষ জন্মগ্রহণ করেছে, সেটাই তার আসল রূপ। এ রূপকে বিকৃত করা মানে আল্লাহর সৃষ্টির বিরোধিতা করা, আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

বর্তমানে আমাদের সমাজে পার্লার নামে উলকিস্থান প্রতিষ্ঠা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে মানবদেহে বিভিন্ন নকশাচিত্র অঙ্কনের কাজ করা হয়, প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। বিশেষত প্রতিষ্ঠানগুলোয় নারীদের উপস্থিতি বেশি। তারা সেখানে ভ্রু সংকুচিত, কালোকে ফরসা, শরীর খোদাই ও রঙ করার কাজ করে থাকে। এভাবে তরুণ-তরুণীরা বিলাসের মোহে পড়ে স্বীয় শরীরে সুচের সাহায্যে নকশা অঙ্কন করে চলছে। অথচ মহান আল্লাহ উলকি অঙ্কনকারী, কেশ উপড়ে ফেলা নারী এবং আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তনকারী নারীর প্রতি অভিসম্পাত করেছেন। এসব অভিশপ্ত কাজ থেকে মুসলিম যুবসমাজের বিরত থাকা ঈমানি দায়িত্ব। সেইসঙ্গে নিজের পরিবারকে অপসংস্কৃতির কালো থাবা থেকে বাঁচানোর জন্য কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

কোরআনে উলকির প্রতি নিন্দা : উলকি বলতে সুচের সাহায্যে দেহে অঙ্কিত স্থায়ী নকশা বা চিত্রকে বোঝায়। এটি গোনাহর কাজ, ইসলাম মোটেই সমর্থন করে না। এ কর্মের জন্য পরকালে জাহান্নামের আজাব ভোগ করতে হবে। আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতিতে পরিবর্তন করাকে কোরআনের ভাষায় শয়তানি পূজা বলা হয়েছে। সে হিসেবে উলকি করাই হচ্ছে শয়তানের আনুগত্য করা, আর আল্লাহর সৃষ্টিকে অস্বীকার করা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তারা আল্লাহকে পরিত্যাগ করে শুধু নারীর আরাধনা করে এবং শুধু অবাধ্য শয়তানের পূজা করে, যার প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। শয়তান বলল, আমি অবশ্যই আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট অংশ গ্রহণ করব। তাদের পথভ্রষ্ট করব, তাদের আশ্বাস দেব, তাদের পশুদের কর্ণছেদন করতে বলব এবং আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতিতে পরিবর্তন করতে নির্দেশ দেব। যে কেউ আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়। (সূরা নিসা : ১৭-১৯)

হাদিসে আকৃতি পরিবর্তনকারীর ভয়াবহ পরিণতি : বর্তমান সমাজে মুসলমানরা আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করাকে অপরাধই মনে করছে না। অথচ এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর অপছন্দনীয় ও ঘৃণিত কাজ। এ মর্মে হজরত রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, ওই সব নারী ও পুরুষকে যারা শরীরে ছিদ্র করে, শরীরকে রাঙায় এবং ওইসব নারীর ওপর, যারা সৌন্দর্যের জন্যে স্বীয় ভ্রুর কেশ উপড়ায় আর দাঁতের ওপর রেতি চালায়। তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করতে চায়। (বোখারি : ৬০১২; মুসলিম : ৫৬৯৫)

যে নারী চুলের সঙ্গে চুল সংযোজন করে কিংবা করায়, তার ওপর নবী (সা.) অভিসম্পাত করেন। আর শরীরে সুচ দিয়ে ছিদ্র করে রঙ লাগায় এবং যে ব্যক্তি রঙ লাগানোর কাজ করে, তার ওপরও অভিসম্পাত করেন। (বোখারি : ৬০১১; মুসলিম : ৫৬৯৩)

চুলের সঙ্গে কৃত্রিম চুল সংযোজন হারাম : মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত বিদায় নিতে পারে, ফিরে আসতে পারে না। ফিরে পাওয়াই অসম্ভব। কারণ শিশুকাল থেকে বৃদ্ধকালে পদার্পণ করা সম্ভব, কিন্তু বৃদ্ধকালে শিশুকাল খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। সৃষ্টিকর্তার বিধানই এ রকম। এরপরও কতিপয় মানুষ প্রবৃত্তির মায়াজালে বন্দি হয়ে যৌবনকাল ধরে রাখার চেষ্টা করে। অথচ যৌবনকাল ধরে রাখার জিনিসই নয়। তবে যৌবনকালের ছদ্মবেশী রূপগুলো অনুসরণ করে চলে। এ প্রবৃত্তির চাহিদা মিটাতে গিয়ে মানুষ শরিয়তবিরোধী আমল করতে শুরু করে। যেমন মাথায় কৃত্রিম চুল সংযোজন করা এবং দাড়ি ও চুলে কালো খেজাব লাগানো। ব্যবহারকারী পুরুষ হোক বা নারী হোক উভয়ের জন্য এ কাজ হারাম। হজরত রাসুল (সা.) কালো খেজাব না লাগানোর জন্য কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। হাদিসে আছে, একদিন এক মহিলা সাহাবি নবীজি (সা.)-কে প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রাসুল! মূত্রপাথরি রোগের কারণে আমার মেয়ের মাথার চুল ঝরে গেছে। তাকে আমি বিয়ে দিয়েছি। আমি কি তার চুলের সঙ্গে অন্য চুল জুড়ে দেব? উত্তরে নবী (সা.) বলেন, যার চুল সংযোজন করা হয় এবং যে সংযোজন করে উভয়ের ওপর আল্লাহ অভিশাপ দেন। (বোখারি : ৬০০৪; মুসলিম : ৫৬৮৭)

হাদিসে আরো আছে, মক্কা বিজয়ের দিন আবু বকর (রা.)-এর পিতা আবু কোহাফাকে নবীজি (সা.)-এর সামনে উপস্থিত করা হয়। তখন তার দাড়ি ও চুল ‘সাগামা’ নামি বুড়ির মতোই দেখাচ্ছিল। নবীজি (সা.) তা দেখে বলেন, তার দাড়ি ও মাথার চুলের রঙ বদলে দাও, তবে কালো রঙ এড়িয়ে যাও। (মুসলিম : ৫৬৩১)

লেখক : শিক্ষক, নাজিরহাট বড় মাদরাসা, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম

জিকিরে সজীব রোজাদার

সপ্তম তারাবি: হিজরত, নুসরত ও জিহাদ

ষষ্ঠ তারাবি: শয়তান উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনার পথ দেখায়

তারাবিতে কোরআন তিলাওয়াত রবের সঙ্গে একান্ত আলাপন

পঞ্চম তারাবি: জীবন মরণ সবই আল্লাহর জন্য

মাহে রমজানে নবজীবনে আহ্বান

চতুর্থ তারাবি: আল্লাহর অবাধ্যতা আজাব ও অভিশাপ ডেকে আনে

রোজার গুরুত্বপূর্ণ আমল সাহরি ও ইফতার

মাদক নির্মূল করতে পারলে প্রশাসনকে পুরস্কৃত করা হবে: ধর্মমন্ত্রী

তারাবির নামাজ নিয়ে আজহারীর বিশেষ বার্তা