হোম > ধর্ম ও ইসলাম

সামাজিক বন্ধন মজবুত করে ইফতার

যুবায়ের আহমাদ

রোজা শেষে যে খাবার ও পানীয় গ্রহণ করা হয় তা-ই ইফতার। ইফতার এক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও পুণ্যময় ইবাদত। ইফতার রোজাদারের জন্য পরম আনন্দের। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ। একটি আনন্দ তার ইফতারের সময়, আরেকটি হচ্ছে যখন সে প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।’ (তিরমিজি : ৭৬৬)। ইফতারের সময় রোজাদারদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি ইফতারের সময় এবং প্রতি রাতে লোকদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।’ (ইবনে মাজাহ : ১৬৪৩)। ইফতারকে রাসুলুল্লাহ (সা.) কল্যাণের মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করেছেন, ‘যতদিন লোকেরা (সূর্যাস্তের পর) দ্রুত ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের ওপর থাকবে।’ (মুসলিম : ১০৯৮)।

ইফতারের যেমন রয়েছে ধর্মীয় গুরুত্ব তেমনি রয়েছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব। ইফতার বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে হাজার বছরের মুসলিম ঐতিহ্যের অনস্বীকার্য অংশ। ইফতার আয়োজনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা ঐতিহ্যবাহী ও স্থানীয় খাবারের আয়োজন করেন। যেখানে খেজুরের মতো ইসলামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে স্থানীয় উপাদেয় খাবারের সংমিশ্রণে মিশ্র খাদ্যসংস্কৃতির বিকাশ ঘটে।

ইফতার সামাজিক সম্প্রীতি দৃঢ় করে। সম্মিলিত ইফতার আয়োজনে ধনী, দরিদ্র, নানা শ্রেণি-পেশার মুসলিমরা একসঙ্গে বসে ইফতার গ্রহণ করে। প্রতিবেশী, আপনজন ও আত্মীয়-স্বজনের মাঝে ইফতার বিনিময় মুসলিম সমাজের চিরায়ত ঐতিহ্য। ইফতার গ্রহণের আগে ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়া হয়, মুসলমানরা আল্লাহতায়ালার কাছে দুহাত তুলে নিজের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চান, একে অন্যের কল্যাণ কামনা করেন।

বিভিন্ন দেশে মুসলিম রাষ্ট্রদূতদের সম্মানে অমুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও ইফতারের আয়োজন করেন। অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজের মতো নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রমজান উপলক্ষে মুসলিম শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো, তাদের জন্য ইফতারের আয়োজন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইফতারের মজবুত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থানের কথা জানান দেয়।

ইফতারের মাধ্যমে পারিবারিক ও সামাজিক সম্প্রীতি মজবুত হয় এবং একাত্মতা, উদারতা ও সামাজিক যোগাযোগ বাড়ে বলে ইফতারকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ২০২৩ সালে ইফতারকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ইফতার যেমন বিশ্বসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ তেমনি আবহমান বাংলারও হাজার বছরের ঐতিহ্য। সময়ের পরিবর্তনে খাবারের রকমের পরিবর্তন আসলেও ইফতার করা, করানোর সংস্কৃতি এ ভূখণ্ডে চলমান প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে। আবহমান কাল থেকে বাংলাদেশের বাজারে বাজারে, শহর-গ্রামে ইফতারের পূর্বে নানা পদে ইফতার সামগ্রী সাজিয়ে হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসে ইফতারের সামনে বসে অস্থায়ী দোকান।

রাজধানীর পুরান ঢাকায় ইফতারের আয়োজন মানেই সেরা আর বিখ্যাত খাবারের সমারোহ। ইফতারের দোকানগুলোতে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। ইফতার বিক্রি করে হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে। সব মিলিয়ে কোটি কোটি টাকার ইফতার বাজার দেশের অর্থনীতিতেও ইফতারের মজবুত অবস্থানের কথা জানান দেয়।

ইফতারের সময় পথচারীদের ইফতার গ্রহণের অনুরোধ করতে থাকেন অনেকে। সামর্থ্য অনুযায়ী নারীরা ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে নিয়ে প্রতিবেশীদের বাড়িতে ইফতার পাঠান। মসজিদের মিনার বা মাইক থেকে যখন মাগরিবের আজান বা ইফতারের সাইরেন বাজানো হয় তখন যেদিকে চোখ যায় শুধু ইফতারের দৃশ্যই চোখে আসে। পুরো দেশ যেন পরিণত হয় এক বৃহদাকারের ইফতার মাহফিলে।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ গ্রাম-গঞ্জ-শহর সর্বত্রই মসজিদে মসজিদে এলাকার মানুষের উদ্যোগে ইফতার বিতরণ করা হয়। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের জন্য বিনামূল্যে ইফতার সরবরাহ করা হয়। সামাজিক ইফতারের আয়োজনগুলো অমুসলিমদের জন্যও অবারিত থাকে। ইফতার মাহফিল দেশের রাজনীতির অঙ্গনেও এক মজবুত স্থান দখল করে আছে।

এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এমনকি বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের নেতাদেরও সম্মানের সঙ্গে আমন্ত্রণ জানায়। রাজপথে একে অন্যের বিরুদ্ধে কথা বললেও ইফতারের দস্তরখানে সবাই একসঙ্গে বসে যান। এভাবেই ইফতার মাহফিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সৌহার্দ্যের পরিবেশ তৈরি করে।

লেখক : প্রিন্সিপাল, বাইতুল হিকমাহ একাডেমি, গাজীপুর

জিকিরে সজীব রোজাদার

সপ্তম তারাবি: হিজরত, নুসরত ও জিহাদ

ষষ্ঠ তারাবি: শয়তান উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনার পথ দেখায়

তারাবিতে কোরআন তিলাওয়াত রবের সঙ্গে একান্ত আলাপন

পঞ্চম তারাবি: জীবন মরণ সবই আল্লাহর জন্য

মাহে রমজানে নবজীবনে আহ্বান

চতুর্থ তারাবি: আল্লাহর অবাধ্যতা আজাব ও অভিশাপ ডেকে আনে

রোজার গুরুত্বপূর্ণ আমল সাহরি ও ইফতার

মাদক নির্মূল করতে পারলে প্রশাসনকে পুরস্কৃত করা হবে: ধর্মমন্ত্রী

তারাবির নামাজ নিয়ে আজহারীর বিশেষ বার্তা