হোম > ইসলাম ও জীবন

'হালালা'র নামে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে শরিয়াহবিরোধী

আলী ওসমান শেফায়েত

প্রতীকী ছবি

সম্প্রতি সমাজে ইসলামের একটি অতি সংবেদনশীল ও পবিত্র বিধান 'বিয়ে'কে কেন্দ্র করে এক জঘন্য বিকৃতির চিত্র সামনে এসেছে। তিন তালাকপ্রাপ্ত নারীদের আবার প্রথম স্বামীর সংসারে ফিরিয়ে দেওয়ার বাহানায় এক রাত বা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য যে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে' বা তথাকথিত 'হালালা'র আয়োজন করা হচ্ছে, তা কোনো সাধারণ বিচ্যুতি নয়; বরং দ্বীনের বুকে প্রকাশ্য ছুরিকাঘাত। কিছু স্বঘোষিত ধর্মীয় লেবাসধারী ও এজেন্সি তালাকপ্রাপ্ত নারীদের 'সিভি' সংগ্রহ করে পরপুরুষের সঙ্গে এক বা একাধিক রাত কাটানোর, তথা সহবাসের চুক্তি করিয়ে দিচ্ছে। আর এই পঙ্কিলতাকে তারা নাম দিয়েছে-'ইসলামি সমাধান! ইসলামের নামে এমন কামুকতা ও জঘন্য বিকৃতি দেখে বনি ইসরাইলের সেই অবাধ্য জাতির কথাই স্মরণ হয়, যারা আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ধূর্ততার আশ্রয় নিয়েছিল।

ইসলামের মূল বিধান কী বলে? পবিত্র কোরআনে তিন তালাকের পর প্রথম স্বামীর জন্য সাময়িকভাবে হারাম হওয়া এবং আবার হালাল হওয়ার যে স্বাভাবিক ও আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ শর্তহীন। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, 'অতঃপর যদি সে তাকে (স্ত্রীকে) তালাক দেয়, তবে এরপর সে তার জন্য হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে। অতঃপর যদি সে (দ্বিতীয় স্বামী) তাকে তালাক দেয়, তবে তাদের উভয়ের আবার মিলিত হতে কোনো গুনাহ নেই, যদি তারা মনে করে যে তারা আল্লাহর হুদুদ (সীমারেখা) কায়েম রাখতে পারবে।' (সুরা বাকারা: ২৩০)

আয়াতের ব্যাখ্যা ও শর্ত ক. স্বাভাবিক বিয়ে তালাকপ্রাপ্ত নারী তার ইদ্দত শেষ হওয়ার পর সম্পূর্ণ স্বাধীন। তিনি নিজের পছন্দমতো যেকোনো পুরুষকে স্বাভাবিকভাবে ও. স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়তে বিয়ে করবেন।

খ. স্বাভাবিক বিচ্ছেদ: দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে সংসার করার পর যদি কোনো কারণে তাদের বনিবনা না হয় এবং দ্বিতীয় স্বামী তাকে স্বাভাবিকভাবে তালাক দেয় অথবা দ্বিতীয় স্বামী মারা যায়, তবেই কেবল ইদ্দত পালনের পর প্রথম স্বামী নতুন মোহরানা ও আকদের মাধ্যমে তাকে বিয়ে করতে পারবে।

গ. চুক্তির কোনো স্থান নেই: এই আয়াতে কোথাও 'এক বা একাধিক রাতের জন্য' বা 'তালাক দেওয়ার শর্তে, 'পূর্বপরিকল্পিত সাময়িক চুক্তি বা মেয়াদের'-এসবের কোনো দূরতম স্থান নেই।

অথচ এই পবিত্র ও সুরক্ষামূলক বিধানটিকে কিছু কামুক মানুষ ও কথিত লেবাসধারী আলেমরা বিকৃত করে 'এক রাতের চুক্তি'তে রূপান্তর করেছে। এই চুক্তিভিত্তিক জেনাকার পুরুষদের তারা নাম দিয়েছে 'মুহাল্লিল'। অথচ 'রাসুলুল্লাহ (সা.) এই চুক্তিভিত্তিক বিয়ে পরিচালনাকারী এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের 'ভাড়াটে ষাঁড়ের' সঙ্গে তুলনা করে অভিশাপ দিয়েছেন।

সুনানে ইবনে মাজাহতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'আমি কি তোমাদের ভাড়াটে ষাঁড় সম্পর্কে সংবাদ দেব না? সাহাবিরা বললেন, 'হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল!' তিনি বললেন, 'সে হলো মুহাল্লিল (যে ব্যক্তি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল করার উদ্দেশ্যে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করে)। আল্লাহ তায়ালা মুহাল্লিল (চুক্তিভিত্তিক বিয়েকারী স্বামী) এবং মুহাল্লাল লাহু (যার জন্য হালাল করা হচ্ছে, অর্থাৎ প্রথম স্বামী)-উভয়ের ওপর লানত (অভিশাপ) বর্ষণ করেছেন।' (ইবনে মাজাহ: ১৯৩৬)

একইভাবে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই কাজের সঙ্গে জড়িত উভয় পক্ষের ওপর সুনির্দিষ্টভাবে লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন। (তিরমিজি: ১১১৯) মাজহাবের প্রসিদ্ধ চার ইমামসহ সব যুগের গ্রহণযোগ্য স্কলারদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (ইজমা) হলো-বিয়ের চুক্তির সময় যদি মুখে বা শর্তে উল্লেখ থাকে যে, 'এক রাত বা সহবাসের পর তালাক দিয়ে দিতে হবে,' তবে হানাফি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাব মতে, এই বিয়েটি প্রথম থেকেই ফাসেদ বা বাতিল। নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য) বিয়ে করাকে ইসলামে 'নিকাহুল মুতা' বা সামরিক জন্য (যেমন এক রাত, এক সপ্তাহ বা কয়েক দিনের বিয়ে বলা হয়, যা খায়বারের যুদ্ধ এবং মক্কা বিজয়ের পর (মুসলিম: ১৪০৬) কেয়ামত পর্যন্ত চিরতরে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

মাধ্যমে যে 'হালালা'র আয়োজন চলছে, তা ইসলামের আজকে তথাকথিত নারী আলেমা বা এজেন্সির নামে এক জঘন্য তামাশা। কোনো নারীর তালাক হয়ে যাওয়ার পর যদি তার দ্বিতীয় বিয়ে ভেঙে না যায়, তবে প্রথম স্বামীর জোর করে, কৌশল করে বা চুক্তি করে তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই।

সন্তানদের দানেও ইনসাফ জরুরি!

রাসুলুল্লাহর (সা.) অর্থনৈতিক জীবন

আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশেও রয়েছে ইবাদত

মসজিদে নববীর পরিচ্ছন্নতায় কার্পেট ধোয়া হয় যেভাবে

হজের নিবন্ধন চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

কোন সহজ আমলে পাবেন এক দিনে হাজার নেকি

কোরবানি আমাদের কী শেখাল

অপরাধীর বিচার নিশ্চিতে ইসলামের আদর্শ

ধর্মীয় মূল্যবোধে অবহেলার কুফল

মায়ের প্রতি সম্মান জানানো সন্তানের জন্য সুসংবাদ