হোম > ইসলাম ও জীবন

প্রতিশোধ নয়, দয়া ও ক্ষমাই হলো সিরাতের শিক্ষা: আজহারী

আতিকুর রহমান নগরী

দ্বীন প্রচারের পথে যত বাধা ও বিঘ্নই আসুক— প্রতিশোধ নয়, বরং দয়া ও ক্ষমাই হলো সিরাতের প্রকৃত শিক্ষা বলে জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি চিন্তাবিদ ও বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।

বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি একথা জানান।

মিজানুর রহমান আজহারী লেখেন, অকথ্য নির্যাতন, সীমাহীন জুলুম, ভয়াবহ দমন-পীড়ন আর নির্লজ্জ ঠাট্টা-উপহাসে যখন পবিত্র ভূমি মক্কাতুল মুকাররমায় তাওহিদ ও রিসালাতের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে এসেছিল, দা'ওয়াহর নিভু নিভু প্রদীপের দিকে যখন ধেয়ে আসছিল একের পর এক ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস— তখন রাসুল (সা.) প্রিয় মাতৃভূমি ত্যাগ করার এক দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন।

তিনি লেখেন, মরুআরবের প্রতিটি ঘরে ঘরে তাওহিদের অমীয় বাণী পৌঁছে দেয়ার সুমহান উদ্দেশ্যে আকাশসম আগ্রহ ও উদ্দীপনা নিয়ে তিনি মক্কার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত তায়েফে গমন করলেন। দা'ওয়াহ-র কণ্টকাকীর্ণ পথে পিছনের সমস্ত তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে গিয়ে নব উদ্যমে সবকিছু আরম্ভ করার প্রয়াসে পুনর্বার সত্য ও সুন্দরের বাণী পৌঁছে দেওয়ায় নিমগ্ন হলেন।

কিন্তু তায়েফবাসীর প্রতিক্রিয়া ছিল নির্মম! তাদের আচরণ ছিল নৃশংস! উচ্ছৃঙ্খল ছেলেরা জটলা পাকিয়ে রাসুল (সা.) কে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলল। কেউ নিন্দা করছিল, কেউ ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছিল। সকল ধৃষ্টতার সীমা লঙ্ঘন করে কয়েকজন রাসুল (সা.) কে পাথর ছুঁড়ে রক্তাক্তও করল। তায়েফের ময়দানকে প্রিয় নবিজির পবিত্র রক্তে রঞ্জিত করল। পাহাড়রক্ষী ফেরেশতা এসে বললেন— “আপনি চাইলে আমি দুই পাশের পাহাড় চাপ দিয়ে এদের ধ্বংস করে দিতে পারি।”

অমানবিক অত্যাচার, অকথ্য নির্যাতন ও বিদ্রূপের মুখে থেকেও রাসূল (সা.) ছিলেন অদম্য—পাহাড়ের মতো দৃঢ়, অবিচল এবং স্থিতপ্রজ্ঞ। বর্ষার অবিরাম বারিধারার ন্যায় তাঁর হৃদয় থেকে উৎসারিত হতো মানুষের জন্য স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসা। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে এই হতভাগাদের জন্য তিনি দুআ করলেন মহীয়ান সকাশে— “হে আল্লাহ, আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন, কারণ তারা জানে না।”

সুবহানাল্লাহ! উম্মাহর কাণ্ডারি বুঝি এমন-ই হন!

এটাই হলো মহানবি (সা.) এর তায়েফ সফরের ক্ষুদ্র এক দৃশ্যপট— অপরিসীম ধৈর্য, অনুপম ত্যাগ-তীতিক্ষা আর পর্বতপ্রমাণ দৃঢ়তার এক বিরল দৃষ্টান্ত।

রাসুল (সা.) বলেছিলেন— “হয়তো আল্লাহ তাদের বংশধর থেকে এমন কাউকে সৃষ্টি করে দেবেন, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে।” [সহীহ মুসলিম, হাদিস : ১৭৯৫]

কয়েক বছর যেতে না যেতে, সত্যি-ই সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়েছিল।

সুতরাং, দ্বীন প্রচারের এ পথে যতো বাধা ও বিঘ্নই আসুক— প্রতিশোধ নয়; বরং দয়া ও ক্ষমাই হলো সিরাত এর প্রকৃত শিক্ষা।

জাকির নায়েকের সঙ্গে সাক্ষাৎ, নিজের লেখা বই উপহার দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

আজহারীর হাতে ‘কিসওয়াতুল কাবা’ তুলে দিলেন ডা. জাকির নায়েক

রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম ২৩ সেপ্টেম্বর

ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধসহ পাঁচ দফা দাবি

নবীজির বাচনিক প্রজ্ঞা

‘বদনজর সত্য’ হাদিসের বৈজ্ঞানিক সত্যতা

হজের নিবন্ধন শেষ ২৪ সেপ্টেম্বর, বাড়বে না সময়

বিয়ে ও তালাকের সীমারেখা

শরীয়াহর দৃষ্টিতে সম্পত্তি হস্তান্তর বিলে যেসব সমস্যা

হেবা কী, কখন করা যাবে, কে করতে পারেন, কার জন্য করা যাবে