এক ম্যাচ আগেই ওপেনিংয়ে নেমে ৯৭ রানে অপরাজিত ছিলেন তাওহিদ হৃদয়। ঢাকায় সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন তিনি। এবার ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নেমে খেলেছেন ঝড়ো ইনিংস। ৪৬ বলে ৬২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। বিপিএলে তারই সতীর্থ নাহিদ রানা বল হাতে ছিলেন আরো উজ্জ্বল। নিজের কোটার পুরো চার ওভার বল করে ১১ রান খরচায় নিয়েছেন তিন উইকেট। করেছেন ১৪ ডট বল।
আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ডেভিড মালানের সঙ্গে ১২৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন তাওহিদ হৃদয়। ৪৬ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলার পথে হাঁকান ৫ চার ও ৪ ছক্কা। দারুণ ইনিংস গড়ার পথে তিন-তিনবার জীবন পান তিনি। দুটি পান ১০ম ওভারে আর শেষটি পান ১৬তম ওভারে। ইনিংসের প্রথম তিন বলে কোনো রানই নিতে পারেননি তাওহিদ হৃদয়। ৫ম ও ৬ষ্ঠ বলে টানা দুই ৪ হাঁকিয়ে আভাস দেন বড় ইনিংস খেলার। শেষ পর্যন্ত খেলেছেনও তা-ই। এবারের আসরের তৃতীয় ফিফটি পেয়েছেন তিনি।
তবে হৃদয়ের ইনিংসে সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ ছিল ডট বল। ৪৬ বলের ইনিংসে হৃদয় খেলেছেন ২০ ডট বল। অর্থাৎ, প্রায় অর্ধেক বল থেকেই কোনো রান নিতে পারেননি। এটাই তার ইনিংসের একমাত্র নেতিবাচক ব্যাপার। এ ব্যাপারটি এক পাশে রেখে দিলে দারুণ এক ইনিংসই খেলেছেন তাওহিদ হৃদয়।
অন্যদিকে বল হাতে আজ ঢাকার ব্যাটারদের ওপর ছড়ি ঘোরান নাহিদ রানা। নিজের কোটার পুরো বল করে ১১ রান খরচায় নেন তিন উইকেট। নাহিদের শুরুটা ছিল দারুণ। ইনিংসে প্রথমবার বল করতে এসেই ফেরান ঢাকা ক্যাপিটালসের সাইফ হাসানকে। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে সাব্বির রহমানকে আউট করেন নাহিদ। তাতে প্রথম দুই ওভার শেষে নাহিদের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ২-০-৫-২! পরের দুই ওভারে নাহিদের খরচ ছিল আর মাত্র ছয় রান। দারুণ বোলিংয়ের সঙ্গে ১৪ ডট বলে প্রমাণ করে কতটা দারুণ ছিলেন নাহিদ রানা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে নাহিদ রানা বলেন, ‘আমি শুধু একটা জিনিস চেষ্টা করছিলাম কীভাবে গুড লাইন-লেংথে বোলিং করা যায়।’ এবারের বিপিএলে এটাই ছিল নাহিদের সেরা বোলিং ফিগার। আগের ম্যাচগুলোতেও এমন দারুণ বোলিং করার সুযোগ হয়নি তার। এ নিয়ে নাহিদের ভাষ্য ছিল, ‘আমি এখানে ব্যক্তিগত লক্ষ্য কিছু দেখি না। আমি দেখি কীভাবে আমার দলকে উইনিং পারফর্ম দেব। আর এটা করতে পারলে আমার কাছে অনেক খুশি লাগে।’
রংপুর রাইডার্সের দুই তরুণ তুর্কির এমন দারুণ পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দেশিদের পারফরম্যান্সে ভর করে জয় পাওয়া সম্ভব। সেটাই করে দেখিয়েছে রংপুর রাইডার্স।