হোম > খেলা

ক্রিকেটে পিতা-পুত্রের গল্প

আরিফুল হক বিজয়

ক্রিকেটে বংশপরম্পরা ব্যাপারটি পুরোনো। একই পরিবার থেকে উঠে এসে পিতা-পুত্রের মাঠ মাতানো কিংবা একই দলের হয়ে মাঠে নামার নজির অসংখ্য আছে। সবশেষ এই তালিকায় যুক্ত হলেন আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী ও তার ছেলে হাসান ঈসাখিল। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএলে) নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে খেলা দুই আফগানি পিতা-পুত্রের কল্যাণে বাইশগজ আবার সাক্ষী হলো বংশপরম্পরার। তারই ধারাবাহিকতায় জাতীয় দল কিংবা স্বীকৃত ক্রিকেটে একই দলের হয়ে মাঠে নামা পিতা-পুত্রের জুটিগুলোর দিকে আলোকপাত করা যাক।

ক্রিস ব্রড ও স্টুয়ার্ট ব্রড

ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন বাবা-ছেলে ক্রিস ব্রড ও স্টুয়ার্ট ব্রড। ক্রিস ব্রডের ক্যারিয়ার খুব বেশি লম্বা হয়নি। ২৫ টেস্ট খেলে ৪০-এর একটু নিচে গড়ে ১৬৬১ রান ক্রিস ব্রডের। তবে দর্শকদের মাত করতে পেরেছিলেন। ১৯৮৬-৮৭ সালের অ্যাশেজে টানা তিন টেস্টে সেঞ্চুরিতে ৪৮৭ রান করে আলোড়ন তুলেছিলেন। তবে তাকে ছাড়িয়ে গেছেন ছেলে স্টুয়ার্ট ব্রড। ইংল্যান্ডের হয়ে ১৬৬ টেস্ট, ১২১ ওয়ানডে আর ৫৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ব্রডের শিকার ৮৪৩টি উইকেট। জাতীয় দলের হয়ে জিতেছেন ২০১০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।

ল্যান্স কেয়ার্নস ও ক্রিস কেয়ার্নস

নিউজিল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে পিতা-পুত্রের গল্পটায় আছেন ল্যান্স কেয়ার্নস ও ক্রিস কেয়ার্নস। মজার বিষয় হলো, দুজনই মাঠে একই রোলে খেলতেন; মিডিয়াম পেসার, প্রয়োজনে ব্যাট হাতেও ছিলেন সমান কার্যকর। অর্জনের বিচারে বাবা ল্যান্সের চেয়ে এগিয়ে ক্রিস। ১১ বছরের ক্যারিয়ারে নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪৩ টেস্টে ১৩০ উইকেট নিয়েছিলেন ল্যান্স। ক্রিস কেয়ার্নস ছিলেন সময়ের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। টেস্টে ৩০০০ রান ও ২০০ উইকেটের বিরল ‘ডাবল’ আছে তার। ওয়ানডেতে দুইশর বেশি উইকেট, ৪ সেঞ্চুরি ও ২৬ ফিফটিও আছে।

সুনীল গাভাস্কার ও রোহান গাভাস্কার

পিতা-পুত্রের গল্পে আক্ষেপের জুটি সুনীল গাভাস্কার ও রোহান গাভাস্কার। ভারতের ইতিহাসে কিংবদন্তির আসনে বসেছেন সুনীল গাভাস্কার। ঠিক উল্টো অবস্থা তার ছেলে রোহান গাভাস্কারের। রোহান হারিয়ে গেছেন কালের গহ্বরে। পিতা টেস্টে ৩৪ সেঞ্চুরি ও ৪৫ ফিফটির মালিক, এদিকে ১১টি ওয়ানডে খেলেই শেষ হয়েছে রোহানের ক্যারিয়ার।

লালা অমরনাথ ও মহিন্দর অমরনাথ

ভারতীয় ক্রিকেটে আরেকটি বাবা-ছেলে জুটি লালা অমরনাথ ও মহিন্দর অমরনাথ। সবচেয়ে সফল ও জনপ্রিয় জুটি এরাই। ১৭ বছরের দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ার ছিল লালার, ভারতের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম শতক হাঁকানো ব্যাটার তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানকে হিট আউট করা একমাত্র বোলারও লালা। মহিন্দর অমরনাথ তো ভারতকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপই জিতিয়েছেন। ১৯৮৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনিই যে ছিলেন ম্যাচসেরা!

হানিফ মোহাম্মদ ও শোয়েব মোহাম্মদ

পিতা-পুত্র জুটিতে আছে পাকিস্তানের নামও; হানিফ মোহাম্মদ ও শোয়েব মোহাম্মদ। ৫৫ টেস্ট ম্যাচে প্রায় ৪৪ গড় নিয়ে ৪ হাজারের কাছাকাছি রান হানিফের। ১৯৫৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার ৩৩৭ রানের ইনিংসটি টেস্ট ইতিহাসে মহাকাব্যিক ইনিংস। ছেলে শোয়েব ব্যাটিং গড়ে বাবাকে ছাড়িয়ে যান। ১৯৯০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তার ২০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস আছে।

পিটার পোলক ও শন পোলক

দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি বোলার শন পোলককে কে না চেনে? তবে তার বাবা পিটার পোলকের নাম এই প্রজন্মের অনেকে নাও শুনতে পারেন। দুজনই নিজ নিজ সময়ে দেশের হয়ে ছিলেন বিশ্বের সেরা পেসারদের মাঝে অন্যতম। পিটার পোলক ২৮ ম্যাচের ক্যারিয়ারেই নিয়েছেন ১১৬ উইকেট! শন পোলক বাবাকে ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৭৩৮৬ রান ও ৮২৯ উইকেট নিয়ে আসীন হয়ে আছেন ক্রিকেটের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন হিসেবে।

জিওফ মার্শ, শন মার্শ ও মিচেল মার্শ

অস্ট্রেলিয়ার মার্শ পরিবারে আছেন বাবা-ছেলে মিলিয়ে তিনজন; জিওফ মার্শ, শন মার্শ ও মিচেল মার্শ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৯৮৫ থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে ৫০ টেস্ট ও ১১৭ ওয়ানডে খেলেছিলেন জিওফ মার্শ। কোচ হিসেবে জিতেছেন ১৯৯৯ বিশ্বকাপ। তার দুই ছেলের মধ্যে মিচেল মার্শ ছাড়িয়ে গেছেন বাবা ও ভাইকে। জাতীয় দলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছেন মিচেল (২০১৫ ও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ)।

শিবনারায়ণ চন্দরপল ও তেজনারায়ণ চন্দরপল

শিবনারায়ণ চন্দরপল ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটে কিংবদন্তি হয়ে আছেন। তার অদ্ভুত ব্যাটিং স্টাইল আজও চোখে লেগে আছে অনেকের। শিবনারায়ণের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের জাতীয় দলে খেলছেন তার ছেলে তেজনারায়ণও। তবে বাবার মতো এখনো নামডাক ছড়াতে পারেননি।

মোহাম্মদ নবী ও হাসান ঈসাখিল

পিতা-পুত্রের এত জুটির মাঝেও ভিন্নভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আফগানিস্তানের নবী ও তার ছেলে ঈসাখিল। শীর্ষ কোনো টি–টোয়েন্টি লিগে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ব্যাট করলেন বাবা–ছেলে। বিপিএলে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে ভিন্ন নজির দেখালেন তারা। ঈসাখিলের মাথায় অভিষেক ক্যাপ তুলে দিয়েছেন নবী নিজেই।

যুক্তরাষ্ট্রের পেসার আলি খানের ভিসা আবেদন নাকচ ভারতের

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি আসছে আজ

রোনালদোর গোল স্কোরিংয়ের রজতজয়ন্তী

টিভির পর্দায় ভারত-নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ওয়ানডে

ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ

শাহিনকে আর্থিক সহায়তা বিসিবির

ভুল করেও জিতল লিভারপুল

বাংলাদেশ-ভারত মুখোমুখি

ভারতের বিপক্ষে খেলে অবসরে যাচ্ছেন হিলি

সেমিফাইনালে উঠেছে পঞ্চগড়, ঢাকা, যশোর ও কুষ্টিয়া