টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে পিএসজি। সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বায়ার্ন মিউনিখের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফরাসি ক্লাবটি।
অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল। প্রথম লেগে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের সুবাদে কিছুটা এগিয়ে থেকেই মাঠে নেমেছিল পিএসজি। সেই সুবিধাই শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে তারা।
ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। উসমান দেম্বেলের দারুণ এক ফিনিশিংয়ে গোল পায় পিএসজি। তবে গোলটির পেছনে বড় অবদান ছিল খভিচা কাভারাতসেখেলিয়ার। বাম দিক দিয়ে দুরন্ত গতিতে রক্ষণভাগ ভেঙে ভেতরে ঢুকে নিখুঁত কাটব্যাক পাস বাড়ান তিনি, যা সহজেই জালে জড়ান দেম্বেলে।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বায়ার্নের খেলোয়াড়রা। নুনো মেন্ডেসের বিরুদ্ধে হ্যান্ডবলের অভিযোগ উঠলেও রেফারি সেটি আমলে নেননি। পরে পিএসজির বক্সে জোয়াও নেভেসের বিরুদ্ধেও একই ধরনের আবেদন করা হলেও তাতেও সাড়া মেলেনি।
এই ম্যাচে অ্যাসিস্ট করার মাধ্যমে নতুন এক রেকর্ডও গড়েছেন কাভারাতসেখেলিয়া। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে টানা সাত ম্যাচে গোল কিংবা অ্যাসিস্ট করা প্রথম ফুটবলার এখন তিনি। চলতি মৌসুমে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০, সঙ্গে রয়েছে ৬টি অ্যাসিস্ট—যা কিলিয়ান এমবাপ্পের পরিসংখ্যানের সমান।
পুরো ম্যাচজুড়ে বায়ার্ন একের পর এক আক্রমণ চালালেও শেষ মুহূর্তে হ্যারি কেইনের করা একটি গোল ছাড়া আর কিছুই আদায় করতে পারেনি। ফলে ২০১৩ ও ২০২০ সালের মতো এবারও ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল জার্মান ক্লাবটির।
এদিকে, আগের দিন আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্সেনাল ও পিএসজি।
এবারের ফাইনাল পিএসজির জন্য আরও বিশেষ হতে যাচ্ছে। কারণ রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের ইতিহাস গড়ার সুযোগ থাকছে তাদের সামনে।