নারী এশিয়ান কাপ
নারী এশিয়ান কাপের অভিষেকে চীনের বিপক্ষে যে সম্ভাবনাময় ফুটবল খেলেছিল বাংলাদেশ, সেটি দেখা যায়নি উত্তর কোরিয়ার ম্যাচে। ম্যাচজুড়ে একচেটিয়া দাপট দেখাল কোরিয়ার মেয়েরা। প্রথমার্ধের শেষ দিকের ভুলে দুই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। পরে কোরিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আর ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। দুরন্ত গতির ফুটবল ও কৌশলের সামনে ব্যর্থ হয়ে বড় ব্যবধানে হারল নারী দল। উত্তর কোরিয়া জিতল ৫-০ গোলে। এর আগে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ চীনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপে টানা দুই ম্যাচে হেরে গেলেও এখনো কোয়ার্টার ফাইনালের আশা বেঁচে রইল বাংলাদেশের। একই দিন অপর ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারায় চীন। আগামী ৯ মার্চ যদি উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ জিততে পারে বাংলাদেশ, তাহলে এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হবে। ‘বি’ গ্রুপে ৬ পয়েন্ট করে অর্জন চীন ও উত্তর কোরিয়ার। পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের অর্জন শূন্য।
এবারের এশিয়ান কাপে তিন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলছে মোট ১২টি দল। প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। এছাড়া তিন গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা দুটি দলও কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে। এ হিসাবে এখনো টুর্নামেন্টে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার আশা রয়েছে বাংলাদেশের। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারলে বিশ্বকাপে খেলার দুয়ারও খুলে যেতে পারে তাদের। এখন সেদিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা।
ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। বল দখলের লড়াইয়ে রীতিমতো সংগ্রাম করেছে কোচ বাটলারের দল। পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষকে কয়েকটি অফসাইট ফাঁদে ফেলা ছাড়া বলার মতো কোনো তেমন কিছুই করতে পারেনি তারা। ম্যাচে কোরিয়ার দুটি গোল বাতিল হয়েছে। তবে অসংখ্য গোলের সুযোগ তৈরি করে কোরিয়া। চীনের মতো এ ম্যাচেও গোলপোস্টের নিচে দক্ষতার পরিচয় দেন মিলি আক্তার। অসাধারণ বেশ কিছু সেভ করেছেন এই ১৯ বছর বয়সি গোলরক্ষক। আর তা না হলে বাংলাদেশের হারে ব্যবধান আরো বাড়তে পারত। মূলত প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুটি গোল হজম করেই ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তাছাড়া সিডনির গরম আবহাওয়াও ভুগিয়েছে মেয়েদের। যার প্রভাব দলের পারফরম্যান্স ওপর পড়েছে। অবশ্য ফিফা র্যাংকিংয়ে নবম অবস্থানে থাকা উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১১২তম অবস্থানের বাংলাদেশ যে লড়াই করেছে, তাতেই তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন বাংলাদেশ কোচ বাটলার।
প্রথমার্ধের নির্ধারিত ৪৫ মিনিট পর্যন্ত কোরিয়াকে আটকে রাখে বাংলাদেশের মেয়েরা। এরপরই তাল হারিয়ে ফেলে দল। বিরতিতে যাওয়ার আগে দুটি গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে তারা। অবশ্য ১৪ ও ২৭ মিনিটে উত্তর কোরিয়ার দুটি গোল বাতিলও হয়েছে। ৩৮ মিনিটে কিয়ং ইয়ংয়ের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+৫ মিনিটে) পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল পায় উত্তর কোরিয়া। মিয়ং ইয়ো জংয়ের স্পট কিকে গোল করেন। এরপরই কিম ইয়ংয়ের গোলে স্কোর লাইন ২-০ করে কোরিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমেও একই ছন্দে খেলে তারা। তাদের বিপক্ষে কুলিয়ে উঠতে পারেনি আফঈদা খন্দকাররা। ৬২ মিনিটে চে উন ইয়ং এবং ৬৪ মিনিটে কিম ইয়ং গোল করলে ৪-০ স্কোর লাইন হয়। ৯০ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন কিম ইয়ং। ফলে বড় জয় পায় উত্তর কোরিয়া।
কোরিয়ানদের কাছে বড় ব্যবধানে হারলেও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার আশা ছাড়ছে না বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার। ম্যাচশেষে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল, আমরা ভালো খেলব এবং ফাইট করব। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করেছি।’ আফঈদা জানান, প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে দুটি গোল হজম করেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে তারা। তাছাড়া সিডনির গরম তাদের বেশ ভুগিয়েছে। আফঈদা বলেন, ‘আমরা যেখান থেকে এসেছি বাংলাদেশ থেকে, বাংলাদেশে এতটা গরম ছিল না। তারপরও আমরা কিছুটা কয়েকদিন আগে যেহেতু এসেছি। কিছুটা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।’ এবার উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। আফঈদা বলেন, ‘আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব যাতে পরের রাউন্ডে (কোয়ার্টার ফাইনালে) যাওয়ার। উজবেকিস্তান ম্যাচ আছে এখনো আমাদের হাতে। ইনশাল্লাহ ভালো কিছু হবে। আমরা ভালো কিছু করতে পারব।’ উজবেকিস্তানও কম শক্তিশালী দল নয়। ফিফা র্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান ৪৯তম। মধ্য এশিয়ার এই দলটির বিপক্ষে যে ভালো পরীক্ষা দিতে হবে বাংলাদেশ নারী দলকে, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।