হেক্সা মিশনের নেপথ্যে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ
বিশ্বকাপ এলেই ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়ে মাঠের বাইরের নানা রোমাঞ্চকর ঘটনা। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবারের বিশ্বকাপে মাঠের কৌশলের চেয়েও বেশি আলোচনা চলছে সেলেসাওদের মাঠের বাইরের রাজকীয় ও নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়ে। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে বিশ্বকাপ মিশন সফল করতে বিশেষ ফ্লাইটে ইতোমধ্যে ২৩ খেলোয়াড়সহ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে পৌঁছেছে ব্রাজিলের বিশাল বহর; বাকি তিনজন সরাসরি যোগ দিয়েছেন বেস ক্যাম্পে। তবে ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে তাদের সঙ্গে থাকা ১০ টনের বিশাল লাগেজ এবং এক অভিনব ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাব্যবস্থা।
মাত্র চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিল দল এরচেয়ে ঠিক অর্ধেক পরিমাণ লাগেজ নিয়ে গিয়েছিল। এবার সে পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ার পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ। প্রথমত, কাতার বিশ্বকাপে দলগুলো একটি নির্দিষ্ট শহরে অবস্থান করার সুবিধা পেয়েছিল। কিন্তু এবার দলটিকে নিউ জার্সি, ফিলাডেলফিয়া ও মিয়ামির মতো যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্ন ভিন্ন শহরে ভ্রমণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, এবার খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে দ্বিগুণ অনুশীলন কিট— যার একটি নাইকি; অন্যটি জর্ডান ব্র্যান্ডের।
ব্রাজিল দলের এ বিশাল লাগেজের সিংহভাগজুড়েই রয়েছে স্বাস্থ্য ও ফিটনেস সুরক্ষার আধুনিক সব সরঞ্জাম। দলের ফিজিওলজিস্ট গুইলহের্মে পাসোস এই অভিনব পরিকল্পনার ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, ‘নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের ট্রেনিং সেন্টারে যদিও আমাদের হোটেলের মতো অনেক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো আছে, কিন্তু কোনো হোটেলেই আমাদের মতো বিশেষায়িত চিকিৎসা বিভাগ নেই।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমরা নির্ধারিত প্রত্যেকটি হোটেলেই একটি করে নিজস্ব চিকিৎসা বিভাগ তৈরি করেছি। আমাদের সঙ্গে রয়েছে সব ধরনের ফিজিওথেরাপি সরঞ্জাম, লেজার, আলট্রাসাউন্ড মেশিন ও শকওয়েভ থেরাপির আধুনিক যন্ত্রপাতি। এটি আসলে একটি ভ্রাম্যমাণ অ্যাম্বুলেন্স সেবার মতোই কাজ করবে।’ খেলোয়াড়দের চোট-আঘাত থেকে দ্রুত সেরে ওঠা এবং শতভাগ ফিটনেস ধরে রাখতেই এমন ব্যবস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাজিলের এই বিশ্বকাপ বহরটি যেন একটি আস্ত মিনি দেশ! স্কোয়াডের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, মেডিকেল ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞ, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাকর্মী থেকে শুরু করে প্রশাসন ও ম্যানেজমেন্ট টিমের সদস্য মিলিয়ে মোট ৯১ জন যুক্ত রয়েছেন এ কাফেলায়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫-৬ জুন নিউ জার্সিতে অবস্থান করবে সেলেসাওরা। এরপর তারা পাড়ি জমাবে ক্লিভল্যান্ডে, যেখানে আগামী ৬ জুন মিসরের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে কোচ কার্লো আনচেলত্তির দল।
এরপরই শুরু হবে আসল পরীক্ষা। ‘সি’ গ্রুপে থাকা ব্রাজিল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলবে ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে। এরপর গ্রুপ পর্বের বাকি দুটি ম্যাচে যথাক্রমে ১৯ জুন হাইতি এবং ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এই বিশাল ও নিখুঁত লজিস্টিকস পরিকল্পনা প্রমাণ করে, ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি বা ‘হেক্সা’ জয়ের জন্য কোনোরকম ফাঁকফোকর রাখতে রাজি নয় সাম্বা সাম্রাজের প্রতিনিধিরা।