২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন মেক্সিকোর তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে তিনি হয়ে গেছেন মেক্সিকোর ইতিহাসে বিশ্বকাপে খেলা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার। সেই সঙ্গে ভেঙে দিয়েছেন ৯৬ বছর ধরে অক্ষত থাকা একটি রেকর্ড।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আস্তেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে আলভারো ফিদালগোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মোরা। বিশ্বকাপে অভিষেকের সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর ২৪০ দিন। এতেই মেক্সিকোর হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে খেলার রেকর্ড নিজের করে নেন এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার।
এর আগে রেকর্ডটি ছিল মানুয়েল রোসাসের দখলে। ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে ১৮ বছর ৮৭ দিন বয়সে মেক্সিকোর জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। প্রায় এক শতাব্দী ধরে টিকে থাকা সেই রেকর্ড অবশেষে ভাঙলেন মোরা।
শুধু মেক্সিকোর ইতিহাসেই নয়, বিশ্বকাপের সামগ্রিক ইতিহাসেও নিজের নাম তুলেছেন কনিষ্ঠতম ফুটবলারদের তালিকায়। বর্তমানে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে খেলা ফুটবলারদের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছেন তিনি। তার ঠিক ওপরে আছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে পেলের অভিষেক হয়েছিল ১৭ বছর ২৩৫ দিন বয়সে, অর্থাৎ মোরার চেয়ে মাত্র পাঁচ দিন কম বয়সে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে রেকর্ডটি এখনও ধরে রেখেছেন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের নরমান হোয়াইটসাইড। তিনি ১৯৮২ বিশ্বকাপে ১৭ বছর ৪১ দিন বয়সে মাঠে নেমে এই কীর্তি গড়েছিলেন। তালিকার অন্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন ক্যামেরুনের সামুয়েল এতো, নাইজেরিয়ার ফেমি ওপাবুনমি এবং ক্যামেরুনের সালোমন ওলেম্বে।
তবে বয়সভিত্তিক রেকর্ড গড়া মোরার জন্য নতুন কিছু নয়। গত বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের সময়ও তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। মাত্র ১৬ বছর ২৫৭ দিন বয়সে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নেমে মেক্সিকোর ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েই সেই প্রতিশ্রুতির প্রমাণ দিলেন মোরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে তার অভিষেক শুধু দলের জয়কেই স্মরণীয় করেনি, বরং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল তরুণ প্রতিভা হিসেবে তাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।