দল বেড়েছে। খেলবে ৪৮টি দেশ। দলসংখ্যা বৃদ্ধি ছাড়াও ২০২৬ বিশ্বকাপের রয়েছে আরো বিশেষত্ব। উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশে বসতে যাচ্ছে এবারের ফুটবলের বিশ্বমঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথ আয়োজক। এসব নানা কারণেই অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবারের আসর। ফিফার ফ্ল্যাগশিপ টুর্নামেন্টটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে একটি বিশেষ মাইলফলক গড়তে যাচ্ছে। কেননা, এই আসরেই মাঠে গড়াবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের এক হাজারতম ম্যাচ।
বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৩০ সালে। উরুগুয়ে আসর দিয়ে। সেই অভিষেক আসরের পর ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত খেলা হয়েছে ৯৬৪টি ম্যাচ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা বিশ্বকাপ সেই সংখ্যাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। ৪৮ দল ও ১০৪ ম্যাচের বিস্তৃত নতুন সংস্করণের কারণে এবারের আসর ছুঁয়ে ফেলবে হাজার ম্যাচের মাইলস্টোন। ঐতিহাসিক হাজারতম ম্যাচের কীর্তিটা গড়া হবে গ্রুপ পর্বেই।
গ্রুপ পর্বে জাপান-তিউনিসিয়ার মধ্যকার ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপ ফুটবলে যোগ হচ্ছে সংখ্যাতত্ত্বের নয়া অধ্যায়। আগামী ২০ জুন হবে গ্রুপ ‘এফ’-এর এই ম্যাচটি। ঐতিহাসিক এই মাঠের লড়াইটি গড়াবে মেক্সিকোর মন্তেরেইয়ের বিবিভিএ স্টেডিয়ামে।
২০১৫ সালে উদ্বোধন করা মেক্সিকোর এই মন্তেরেই স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৫০ হাজারের বেশি। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নির্মিত হওয়ায় এটি বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত। লাতিন আমেরিকার প্রথম ‘লিড সার্টিফায়েড’ বা পরিবেশবান্ধব স্টেডিয়াম হলো বিবিভিএ। স্টেডিয়ামের ছাদটা ঝুলন্ত। যেন বাতাসে ভেসে বেড়ায়। বাইরের কাঠামো যেন পাহাড়ের আদলে গড়া ঢেউখেলানো অবয়ব- পাশেই বসে আছে সেরো দে লা সিলা পাহাড়।
কনকাকাফ গোল্ড কাপ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করে এই স্টেডিয়াম। এখন বিশ্ব ফুটবল মানচিত্রে আলাদা করে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে মাঠটি। এবার বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচ দিয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে স্টেডিয়ামটি।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের সঙ্গেও জড়িত ছিল মেক্সিকো। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ফ্রান্স। সেই ম্যাচে ফরাসিদের কাছে ৪-১ হার মেনেছিল উত্তর আমেরিকার দেশটি। ১৩ জুলাই ম্যাচটি হয়েছিল উরুগুয়ের মন্টেভিডিও স্টেডিয়ামে।