অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ
হার দিয়েই অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের মিশন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে এসেও ভাগ্য বদলালো না দেশের মেয়েদের। চূড়ান্ত পর্বের এ ম্যাচেও হারের তেতো স্বাদ হজম করেছে বাংলাদেশ। এবার চীনের কাছে হারল ২-০ গোলে। প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে সাগরিকার ২ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে গিয়েছিলেন অর্পিতা বিশ্বাসরা। সেই হার থেকে শিক্ষা নিয়েও লাভ হলো না। আজ ব্যাংককের ননথাবুরি প্রভিন্স স্টেডিয়ামে থাইল্যান্ড ম্যাচের তুলনায় ভুল তুলনামূলক কমই করল বাংলাদেশের মেয়েরা। তারপরও চীনা মেয়েদের রুখা যায়নি।
গত মার্চ সিডনিতে চীনের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা সমান তালে লড়াই করেও ২-০ গোলে হার মেনেছিল। বয়সভিত্তিক নারী ফুটবলে আজও এলো একই ফল।
ম্যাচের শুরু থেকে চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ চীন। জবাবে প্রতিরোধ গড়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। রক্ষণ দেয়ালে চিড় ধরিয়ে গোল আদায় করে নেয় চীন। প্রতিরোধে ফাটল ধরায় সেই ব্যর্থতার পুরনো গল্প লিখেছে সাগরিকারা। ম্যাচে আক্রমণের পর আক্রমণ রচনা করে বাংলাদেশ শিবিরকে তটস্থ রাখে চীনা কন্যারা। কিন্তু তাদের আক্রমণের তোড়ের মাঝেও দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার। ৪৩ মিনিটে টানা তিনবার দলকে রক্ষা করেন। গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশও। কিন্তু দুর্ভাগ্য সাগরিকার শট শেষ মুহূর্তে আটকে দেন চীনের গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী। তাতে গোলশূন্য সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় দুদল।
বিরতির পর খেলা শুরু হতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্রনাট্য। দুই মিনিটের মধ্যে গোললাইনের খুব কাছ থেকে ইউ শিনগুয়ে বল পাঠিয়ে দেন জালে। বাংলাদেশের এক ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক গলে গোল আদায় করে লিড পায় চীন। রক্ষণের প্রতিরোধের প্রথম ফাটল ধরে তখনই। পরে লড়াই হয়েছে দুদলের মধ্যে। মাঝেমধ্যে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ হয়েছে। কিন্তু মাঠে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে চীনের মেয়েরাই। অসাধারণ নৈপুণ্যে ৭১ মিনিটে ফের বাংলাদেশকে গোল থেকে বাঁচান মিলি আক্তার। হেড রুখে দিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখেন। কিন্তু ৮২ মিনিটে ওয়াং আইফাংয়ের নিখুঁত ফ্রি-কিক শট আর আটকানো যায়নি। বল জালে জড়ালে স্কোরলাইন হয়ে যায় ২-০। বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিলি আক্তার বল স্পর্শ করলেও প্রতিরোধের চেষ্টায় সফল হতে পারেননি এ যাত্রায়।
টানা দুই ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশ শেষ আটে ওঠার দৌড়ে টিকে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশের মেয়েরা তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলবে ভিয়েতনামের বিপক্ষে- ৭ এপ্রিল। সে ম্যাচে জিতলে সেরা দুটি তৃতীয় দলের একটি হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের সামনে।