অভিবাসন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের অস্ট্রেলিয়ায় আসার সুযোগ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে ‘ওয়ার্কিং হলিডে’ বা ব্যাকপ্যাকার ভিসার নিয়মও কঠোর করা হচ্ছে। সরকারের আশা, এসব সংস্কারের ফলে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশটিতে বছরে নিট অভিবাসন প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজারে নেমে আসবে। বর্তমানে এই সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ।
নতুন ব্যবস্থায় ভিসার মেয়াদ বাড়াতে ইচ্ছুক ব্যাকপ্যাকারদের জন্য লটারির ব্যবস্থা চালু হবে। পর্যটক ভিসাধারীদের ভিসা পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সুযোগও সীমিত করা হবে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত পরবর্তী স্তরের উচ্চতর যোগ্যতায় অগ্রসর হলেই ছাত্রভিসা নবায়ন করতে পারবেন। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কিছু দেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিক্ষার্থীরা সীমিত ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে আনার সুযোগ পাবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, বৈধ ভিসার মেয়াদ শেষ হলে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান না করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশ ছাড়তে হবে। ভিসা আইন প্রয়োগে আরো ১০০ জন কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বলছে, কঠোর নীতির কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষাখাতের প্রতি বিদেশিদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষাখাত অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে ৫৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার অবদান রেখেছে।
করোনাভাইরাসের কারণে সীমান্ত বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়া পুনরায় সীমান্ত খুললে শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার ও অস্থায়ী কর্মীদের আগমনে অভিবাসন দ্রুত বেড়ে যায়। তবে ২০২৩ সালে ৫ লাখ ১৮ হাজারে পৌঁছানোর পর নিট বিদেশি অভিবাসন কমে ২০২৫ সালের জুনে ৩ লাখ ৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে।