মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা। তার মতে, ট্রাম্প এই বোর্ডের মাধ্যমে আসলে একটি ‘নতুন জাতিসংঘ’ তৈরির চেষ্টা করছেন।
বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশের নেতার মতো প্রবীণ এই বামপন্থি প্রেসিডেন্টও ট্রাম্পের এই নতুন সংস্থায় যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এই বোর্ডে স্থায়ী সদস্যপদ পেতে হলে ১০০ কোটি ডলার গুনতে হবে এবং এর চেয়ারম্যান পদটি থাকবে ট্রাম্পের দখলে।
লুলা বলেন, জাতিসংঘকে সংস্কার করার পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন এক ‘নতুন জাতিসংঘ’ গড়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন, যার মালিক হবেন তিনি নিজেই।
লুলা আরো বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের মূল সনদকেই ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে এই ‘বোর্ড অব পিস’-এর পরিকল্পনা উন্মোচন করেন ট্রাম্প। সেখানে ১৯টি দেশের নেতা ও প্রতিনিধিরা এই পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সনদে স্বাক্ষর করেন।
লুলা বিশ্বরাজনীতিতে পেশিশক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বহুপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর জোর দেন। এই মন্তব্যের ঠিক এক দিন আগেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। সেই ফোনালাপে শি জিনপিং আন্তর্জাতিক বিষয়ে জাতিসংঘের ‘মূখ্য ভূমিকা’ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
প্রাথমিকভাবে গাজা পুনর্গঠনে তদারকির কথা থাকলেও পরিষদের সনদ অনুযায়ী এর পরিধি কেবল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি সরাসরি জাতিসংঘের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ফ্রান্স ও ব্রিটেনও এই পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এই পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করায় আপত্তি জানিয়েছে লন্ডন। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তি তারা মেনে নিতে পারছে না।
অন্যদিকে ফ্রান্স জানিয়েছে, এই পরিষদের বর্তমান সনদ তাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার এবং জাতিসংঘের সদস্যপদ পাওয়ার শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সূত্র: বিএসএস