ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশেষ করে চীনের কাছে ইরানের তেল বিক্রিকে লক্ষ্য করে চাপ প্রয়োগের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে ব্রিফ করা দুই মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, গত বুধবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বৈঠকে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগে একমত হয়েছি, বিশেষ করে চীনের কাছে ইরানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে।”
তবে লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কিছু মতপার্থক্য দেখা যায়। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি নির্ভরযোগ্য চুক্তি সম্ভব নয় এবং তেহরান তা লঙ্ঘন করতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প মনে করেন, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প বলেছেন, “দেখা যাক এটা সম্ভব কিনা—চেষ্টা করে দেখা যাক।”
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক বিকল্প খোলা রাখা হবে। এ লক্ষ্যে ওয়াশিংটন একদিকে পারমাণবিক আলোচনা চালিয়ে যাবে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার রাখবে এবং ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপের নীতি অব্যাহত রাখবে।
বর্তমানে ইরানের তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশেরও বেশি চীনে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের তেল ক্রয় কমাতে পারলে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে বাধ্য করতে পারে।
এছাড়া সম্প্রতি ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুপারিশ করতে পারবে বলে জানা গেছে। এর ফলে ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করার কৌশল জোরদার হতে পারে।