হোম > বিশ্ব > এশিয়া

‘অকালমৃত্যু ও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে কোটি মানুষ’

আমার দেশ অনলাইন

জলবায়ু সংকটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। তাদের এই সতর্কবার্তার দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরো কোটি কোটি মানুষ অকালমৃত্যু ও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।

ডব্লিউএইচও-এর উদ্যোগে গঠিত স্বাধীন প্যান-ইউরোপীয় জলবায়ু ও স্বাস্থ্য কমিশন এক প্রতিবেদনে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তন এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটিকে ‘জনস্বাস্থের জরুরি অবস্থায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ’ (পিএইচইআইসি) হিসেবে ঘোষণা করা প্রয়োজন। কমিশনের মতে, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো বাহক-জনিত রোগের বিস্তার, তীব্র তাপপ্রবাহ, বন্যা, খাদ্যসংকট, বায়ুদূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বহুমুখী প্রভাব মানবস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোববার ইউরোপীয় মন্ত্রীদের সামনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হবে। এরপর সোমবার শুরু হবে ডব্লিউএইচও-এর ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলি।

পিএইচইআইসি হলো ডব্লিউএইচও-এর সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সতর্কতা। এর আগে কোভিড-১৯ ও এমপক্সের মতো সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের মতে, জলবায়ু সংকটকে এভাবে ঘোষণা করলে আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে।

কমিশনের চেয়ারম্যান ও আইসল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাটরিন জ্যাকবসডোটির বলেন, জলবায়ু সংকট হয়তো মহামারি নয়, কিন্তু এটি এমন একটি জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা যা মানবজাতির অস্তিত্ব ও স্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি হুমকি। দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে আরো লাখো মানুষ প্রাণ হারাবে কিংবা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগবে।

কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা এবং লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক স্যার অ্যান্ড্রু হেইনস বলেন, ডব্লিউএইচও ইতোমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরা এখন আরো এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান হারে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন অব্যাহত থাকলে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ, বন্যা, সংক্রামক রোগ, দাবানলের ধোঁয়া, অকাল প্রসব এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরো বাড়বে।

প্রতিবেদনে জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি বন্ধেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখ অকালমৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী জীবাশ্ম জ্বালানি। অথচ অঞ্চলটিতে তেল ও গ্যাস খাতে বছরে প্রায় ৪৪৪ বিলিয়ন ইউরো ভর্তুকি দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে ইউরোপের ১২টি দেশে জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকির পরিমাণ জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যয়ের ১০ শতাংশের বেশি ছিল এবং চারটি দেশে তা পুরো স্বাস্থ্য বাজেটেরও বেশি।

কাত্রিন জ্যাকবসডোত্তির বলেন, এটি কোনো টেকসই জ্বালানি নীতি নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের ব্যর্থতা। ইউরোপীয় সরকারগুলো এমন শিল্পকে ভর্তুকি দিচ্ছে, যেগুলো তাদের নাগরিকদের অকালমৃত্যুর জন্য দায়ী।

প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলা, জলবায়ু-স্বাস্থ্য প্রভাব মূল্যায়ন জোরদার এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিষয়টিকে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শুধু শারীরিক নয়, উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও অন্যান্য মানসিক সমস্যাও দ্রুত বাড়ছে। তাই হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরো সহনশীল ও পরিবেশ-উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক অ্যান্ড্রু হেইন্স বলেন, প্রতিটি দেশের উচিত তাদের স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনাগুলোর অবস্থান, বন্যা ঝুঁকি এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ মোকাবিলার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা। কারণ অনেক হাসপাতাল এখনো বন্যাপ্রবণ এলাকায় নির্মিত এবং জ্বালানি দক্ষ নয়।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

এআরবি

ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠক থেকে সুবিধা পাবে দক্ষিণ কোরিয়া

নারীদের হেনস্তা করায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিকে কারাদণ্ড ও বেত্রাঘাতের আদেশ

দক্ষিণ কোরিয়ায় চীন-মার্কিন বাণিজ্য বৈঠক

মালয়েশিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি: নিখোঁজ ১৪, উদ্ধার ২৩

প্যারোলে মুক্তি পেলেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন

ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তেকে অভিশংসনের পথে ফিলিপাইনের সংসদ

কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে তুর্কি বিমানে আগুন

মালিতে ভয়াবহ হামলা : নিহতের সংখ্যা কয়েক ডজন

জ্বালানি মজুত নিষিদ্ধের মেয়াদ বাড়াল দক্ষিণ কোরিয়া

জ্বালানি ও খাদ্য সংকটের সমাধান খুঁজছে আসিয়ান