হোম > বিশ্ব > এশিয়া

বেইজিংয়ের অভিযোগের জবাব দিল টোকিও

জাপান কি সত্যিই ‘নতুন সামরিকবাদ’ অনুসরণ করছে

আমার দেশ অনলাইন

টোকিও ‘নতুন সামরিকবাদ’ আঁকড়ে ধরছে—এমন অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। একই সঙ্গে স্বচ্ছতার অভাব রেখে চীনের দ্রুত সামরিক শক্তি বাড়ানোর তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি, যা দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

রোববার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’–এ কোইজুমি বলেন, চীন উচ্চ হারে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েই চলেছে। তিনি যোগ করেন, ‘চীনের বহির্মুখী দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামরিক কার্যক্রম জাপান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একই সঙ্গে গভীর উদ্বেগের বিষয়।’

জাপানের বিরুদ্ধে ওঠা সামরিকবাদের সমালোচনা খণ্ডন করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ভেবে দেখুন, যে দেশের কাছে বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রের ভান্ডার এবং কৌশলগত বোমারু বিমান রয়েছে, তারা কিন্তু অভিযুক্ত হচ্ছে না। জাপানের কাছে এর কোনোটিই নেই, তবু জাপানকে ‘নতুন সামরিকবাদ’–এর তকমা দেওয়া হচ্ছে।’

কোইজুমি উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপানের ইতিহাস ‘নিজের সাক্ষ্য নিজেই দেয়’। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, জাতিসংঘ সনদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং একটি ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা’ বজায় রাখতে জাপানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে মে মাসে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছিল, তারা যেন ‘জাপানের নব্য সামরিকবাদের বেপরোয়া পদক্ষেপকে যৌথভাবে প্রতিরোধ’ করে।

সিঙ্গাপুরের এই নিরাপত্তা ফোরামে চীনা প্রতিনিধি মেজর জেনারেল মেং শিয়াংচিং-ও জাপানের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “যে দেশ সামরিকবাদের বিষাক্ত উত্তরাধিকার পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারেনি, তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বড় বড় কথা বলার যোগ্যতা রাখে কি না, এবং বিশেষ করে যেসব এশীয় দেশে তারা একসময় আগ্রাসন চালিয়েছিল, তাদের বিশ্বাস অর্জন করতে পারবে কি না—তা নিয়ে আমার গভীর সন্দেহ রয়েছে।”

গত নভেম্বর মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সতর্ক করেছিলেন যে, তাইওয়ানের ওপর চীনের যেকোনো সম্ভাব্য আক্রমণ জাপানের সামরিক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে। এই বক্তব্যের পর থেকেই টোকিও ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছায়। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করলেও তাইপেই সরকার তা সবসময়ই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

এশিয়ার শীর্ষ এই প্রতিরক্ষা ফোরামে চীনা সমকক্ষের সাথে বৈঠক করতে না পারায় কোইজুমি দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাপান সবসময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত। "আমরা আমাদের দরজা খোলা রাখছি," উল্লেখ করে তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে চীন ও অন্যান্য দেশের সাথে আলোচনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, টানা দ্বিতীয় বছরের মতোচীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুন সিঙ্গাপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বৈঠকটি এড়িয়ে গেছেন, ফলে অন্যান্য দেশের মন্ত্রীদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।

কোইজুমি জানান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সহযোগিতার ক্ষেত্রে জাপান একটি নতুন ভূমিকা পালন করতে "দৃঢ়প্রতিজ্ঞ" এবং এই অঞ্চলে প্রতিরোধ ক্ষমতা দৃশ্যমানভাবে শক্তিশালী করতে চায়।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি অঞ্চল চাই যা যেকোনো জোরজুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে। আমরা এমন একটি অঞ্চল চাই যা মিথ্যাচার দিয়ে বিভ্রান্ত হবে না এবং কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না।”

প্রসঙ্গত, গত এপ্রিলে টোকিও তাদের প্রতিরক্ষা রপ্তানি নীতিতে দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনে। এর মাধ্যমে বিদেশে অস্ত্র বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য আধুনিক অস্ত্র রপ্তানির পথ উন্মুক্ত করেছে জাপান।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

এসআর

পাঁচ বছরে ৩১ লাখ মানুষ হারাল জাপান

বাধ্য হয়ে সন্তান বিক্রি করছেন আফগান বাবারা

জাপানে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

এভারেস্টে নতুন বিশ্ব রেকর্ড, একদিনেই জয় ২৭৪ পর্বতারোহীর

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় শ্রীলঙ্কার চা-শিল্পে সংকট

যে কারণে পাকিস্তানি রুপির তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার ব্যাপক পতন

ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে বৈঠক বাতিল বালেন্দ্রর, দেখাতে চান শক্তিমত্তা

উত্তর কোরিয়ার সীমান্তকে ‘অভেদ্য দুর্গে’ পরিণত করার নির্দেশ কিমের

নতুন প্রজাতির বিশাল আকৃতির ডায়নোসর আবিষ্কার

ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল আফগানিস্তান