হোম > বিশ্ব > ভারত

মোদি বিরোধীদের এক মঞ্চে ডেকে যে বার্তা দিলেন মমতা

আমার দেশ অনলাইন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার শপথ নেওয়ার দিনই রাজনৈতিক পাল্টা বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের ডাক দিয়ে বাম, অতিবাম, জাতীয় দল, ছাত্র-যুব সংগঠন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কালীঘাটে নিজের বাসভবনে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, রাজ্যে সন্ত্রাস ও দমননীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির মোকাবিলায় সব বিরোধী শক্তিকে একসঙ্গে আসতে হবে। তার বক্তব্য, রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বিজেপির বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াই। তিনি স্পষ্ট জানান, বাম, অতিবাম বা যে কোনো জাতীয় শক্তি সবাই চাইলে আলোচনায় বসতে পারেন এবং বিজেপি-বিরোধী বৃহত্তর মঞ্চ গড়ে তোলা জরুরি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কে কোন দলে, সেই প্রশ্নকে গুরুত্ব না দিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিজেপিকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে হবে। তার কথায়, এখন বিভাজনের নয়, ঐক্যের সময়।

মমতার এই আহ্বানের পর সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কটাক্ষের সুরে রবীন্দ্রনাথের কবিতার পংক্তি উল্লেখ করে প্রতিক্রিয়া জানান।

এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বাধার অভিযোগও তোলেন এ তৃণমূল নেত্রী। তার দাবি, রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে ‘দেশ বাঁচাও গণতান্ত্রিক মঞ্চ’-এর কর্মসূচির জন্য একাধিক জায়গায় অনুমতি চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি। এমনকি কালীঘাটের অনুষ্ঠান আয়োজনেও নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতার বক্তব্য, মঞ্চ, প্যান্ডেল বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত নিজেদের উদ্যোগেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি রাজ্যে বিজেপি-সমর্থিত সন্ত্রাস চলছে বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী। তার দাবি, বাইরের লোক এনে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখানো হচ্ছে, হামলা চালানো হচ্ছে এবং তার পরিবারও রেহাই পাচ্ছে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনেও অশান্তি তৈরির অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকি পরিবারের সদস্যদেরও হেনস্তার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেন মমতা।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল কর্মীদের উপর লাগামহীন সন্ত্রাস চলছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি হতে দেননি, বরং বিরোধীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। এছাড়া কংগ্রেস ২, সিপিএম ১, আইএসএফ ১ এবং এজেইউপি ২টি আসনে জয়ী হয়েছে। ভোটের শতাংশের নিরিখে বিজেপি পেয়েছে ৪৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট, তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৪০ দশমিক ৮০ শতাংশ। সিপিএম পেয়েছে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ, কংগ্রেস ২ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং নোটা পেয়েছে শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট।

সূত্র: আনন্দবাজার

এআরবি

অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আসাম, বাংলাদেশেও কম্পন অনুভূত

মমতার বিশ্বস্ত সহকর্মী থেকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী হলেন শুভেন্দু অধিকারী

সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তায় থালাপতি বিজয়

হিন্দু ভোটারদের একচেটিয়া সমর্থন বিজেপিকে

পশ্চিমবঙ্গে মসজিদে ঢুকে ভাঙচুর, ছিঁড়ে ফেলা হলো কুরআন

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বাংলাদেশবিরোধী যত মন্তব্য

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হলেন শুভেন্দু অধিকারী

শুভেন্দুই হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী

জোটের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়