ভারতে তালাক-ই-হাসান নিষিদ্ধ নয় এবং এটি বৈধ বলে পর্যবেক্ষণ করেছেন গৌহাটি হাইকোর্ট। আসামের এক মুসলিম ব্যক্তি পুরোনো আইনের অধীনে তার বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের আবেদন করলে আদালত এ মন্তব্য করেন। তবে পুরোনো আইনে নয়, ২০২৪ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক নিবন্ধন আইনের আওতায় বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের জন্য তাকে বারপেটার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কাছে যেতে বলা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার বিচারপতি অরুণ দেব চৌধুরী এ আদেশ দেন।
তালাক-ই-হাসান মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে প্রচলিত একটি বিবাহবিচ্ছেদ পদ্ধতি। এতে স্বামী নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে তিনবার ‘তালাক’ উচ্চারণ করেন। প্রতিটি উচ্চারণের মধ্যবর্তী সময় স্বামী-স্ত্রীকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও পুনর্মিলনের সুযোগ দেয়। এটি তালাক-ই-বিদআত বা তাৎক্ষণিক তিন তালাক থেকে ভিন্ন। ২০১৭ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাৎক্ষণিক তিন তালাককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।
আদালতে করা আবেদনে ওই ব্যক্তি জানান, ২০১৬ সালে তার বিয়ে হয়। ২০১৮ সালে তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে একাধিকবার তাদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। এরপর তিনি ২২ মার্চ, ২৬ এপ্রিল ও ২৭ মে ২০২৬—এই তিন তারিখে পৃথকভাবে তালাক উচ্চারণ করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন।
কী যুক্তি দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি?
আবেদনকারী আদালতে দাবি করেন, ভারতে তালাক-ই-হাসানের ওপর কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই। মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়াও তিনি সম্পন্ন করেছেন। তাই তার বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের নির্দেশ দেওয়া উচিত।
তবে আসাম সরকার আদালতকে জানায়, যে আইনের অধীনে আগে এ ধরনের বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধন করা হতো, সেটি বাতিল হয়ে গেছে।
তবে, ওই বিচারপতি সব দিক বিবেচনা করে তার পর্যবেক্ষণে বলেন, আবেদনকারী যে পদ্ধতিতে ‘তালাক-এ-হাসান’ উচ্চারণ করেছেন, তা বৈধ তালাকের একটি রূপ এবং বর্তমানে দেশে তা নিষিদ্ধ নয়। তবে, ১৯৩৫ সালের আইন বাতিল হয়ে যাওয়া এবং ওই আইনের অধীনে তৈরি পদ বিলুপ্ত হওয়ায়, এর পরিবর্তে আবেদনকারীকে অসম বাধ্যতামূলক মুসলিম বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ নথিভুক্তকরণ আইন, ২০২৪-এর অধীনে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ নিবন্ধকের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে ওই ব্যক্তির স্ত্রী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। নথি অনুযায়ী, তাকে নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি শুনানিতে অংশ নেননি। তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, আদালতে তার অনুপস্থিতির অর্থ এই নয় যে তার আইনগত অধিকার শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী চাইলে তালাক-ই-হাসানের বৈধতা বা কার্যকারিতা উপযুক্ত আদালত কিংবা আইনগত ফোরামে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএমআর