সিরিয়ার একটি কুখ্যাত কারাগারের সাবেক প্রধানকে নির্যাতন ও অভিবাসন জালিয়াতির মামলায় ৬০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। বৃহস্পতিবার দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত সামির উসমান আলশেখের বয়স ৭৪ বছর। তিনি ২০২০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি দামেস্ক সেন্ট্রাল প্রিজনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়ভাবে কারাগারটি ‘আদরা কারাগার’ নামে পরিচিত। সেখানে ‘শাস্তি শাখায়’ বন্দিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, চলতি বছরের মার্চে একটি জুরি আলশেখকে নির্যাতনের ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগ, নির্যাতনের তিনটি অভিযোগ, ভিসা জালিয়াতির একটি অভিযোগ এবং নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির চেষ্টার একটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।
বিচার চলাকালে সাবেক তিন বন্দি আদালতে সাক্ষ্য দেন। তারা আলশেখের হাতে নিজেদের ওপর চালানো নির্যাতনের পাশাপাশি কারাগারে অন্য বন্দিদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনাও তুলে ধরেন।
মার্কিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, এই মামলায় দেওয়া শাস্তি নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সাহসের প্রতিফলন।
নির্যাতনের অভিযোগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় নিজের অতীত সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগেও আলশেখকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তিনি নিজের অতীত ইতিহাস গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
ডুভা বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারবে না—এই মামলার মাধ্যমে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে। তাদের শনাক্ত করে গুরুতর অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ইসলামপন্থী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) ও তাদের মিত্রদের নেতৃত্বাধীন একটি জোট ২০২৪ সালের শেষ দিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে বহু সিরীয় নাগরিক দেশটির বিভিন্ন কারাগারে ছুটে যান।
এআরবি