সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বুধবার মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ক্রেমলিন সিরিয়ায় নিজেদের সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আগ্রহী থাকায় এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অক্টোবরে পুতিন ও আল-শারা তাদের আগের বৈঠকে সমঝোতার সুরে কথা বলেন। ২০২৪ সালে রাশিয়ার মিত্র বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সেটিই ছিল দুজনের প্রথম সাক্ষাৎ। তবে আল-আসাদ ও তার স্ত্রীকে রাশিয়ার আশ্রয় দেওয়া এখনো একটি স্পর্শকাতর ইস্যু। আল-শারা বারবার তাদের প্রত্যর্পণের জন্য রাশিয়ার ওপর চাপ দিয়েছেন।
এদিকে আল-শারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করছেন। মঙ্গলবার ট্রাম্প সিরিয়ার নেতাকে “অত্যন্ত সম্মানিত” বলে প্রশংসা করেন এবং বলেন, পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে কাজ করছে।
বৈঠকের আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘সিরিয়ায় আমাদের সৈন্যদের উপস্থিতি সম্পর্কিত সব বিষয় আজকের আলোচনায় থাকবে।’ তবে আল-আসাদ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
আল-আসাদের পতনের পর মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার প্রভাব কমে গেছে। ফলে পুতিন এই অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখতে চেষ্টা করছেন। রাশিয়া সম্প্রতি কুর্দি-অধিষ্ঠিত উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কামিশলি বিমানবন্দর থেকে বাহিনী প্রত্যাহার করেছে। এতে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে কেবল হামেইমিম বিমানঘাঁটি ও তারতুস নৌঘাঁটি রয়ে গেছে। এগুলোই সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরে রাশিয়ার একমাত্র সামরিক ঘাঁটি।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ায় রাশিয়ার অবস্থান ও নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণে এই বৈঠক বড় ভূমিকা রাখবে।