আইআরজিসি
ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে একটি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইসরাইল যদি এই হামলার কোনো জবাব দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে এর বিপরীতে আরো ধ্বংসাত্মক ও ব্যাপক পাল্টা হামলা চালানো হবে।
ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক মোহাম্মদ ভাল জানিয়েছেন, আইআরজিসির এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে ইসরাইলের ওপর এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখার কোনো উদ্দেশ্য আপাতত ইরানের নেই। সম্ভাব্য পাল্টা আঘাতের জন্য ইরান প্রস্তুতি নিলেও তাদের মূল বার্তা পরিষ্কার, তারা লেবাননের জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে এবং ইসরাইলকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। তবে ইসরাইল যদি তাদের আগ্রাসন চালিয়ে যায়, তবে আরো অনেক বড় বার্তা দেওয়ার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে।
ইরান এখন এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে যেখানে দ্বন্দ্বটি শুধু ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ইসরাইলকে অবশ্যই লেবাননে তাদের হামলা বন্ধ করতে হবে।
তবে এখন মূল সংকট হলো, ইসরাইল শেষ পর্যন্ত পাল্টা হামলা চালাবে কি-না। এ বিষয়ে ইসরাইলি পক্ষ মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে যেন তারা কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ না নেয়।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইসরাইল যদি ইরানের ওপর পাল্টা হামলা না-ও করে, কিন্তু লেবাননে তাদের বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখে, তবে ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার উদ্দেশ্য ভেস্তে যাবে। ইরান এতে সন্তুষ্ট হবে না এবং লেবাননে তাদের মিত্ররাও এই হামলাকে ফলপ্রসূ হিসেবে দেখবে না।
অন্যদিকে, ইসরাইল যদি লেবাননে তাদের আক্রমণ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তবে সেটি ইরানে একটি বড় বিজয় হিসেবে গণ্য হবে। আর এই যুদ্ধবিরতিকেই পাকিস্তান আলোচনার পরবর্তী ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে বলে মনে করছে তেহরান।
সূত্র: আল-জাজিরা
এএম