হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া নিরপেক্ষ দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের জন্য আজ সোমবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন জাহাজ খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা।
জাহাজ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যাংলো-ইস্টার্নের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিয়র্ন হোইগার্ড বলেন, ‘প্রণালির বাধা কাটাতে উভয় পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন, কেবল একজনের সিদ্ধান্তে হবে না। কোনো এক পক্ষ নির্দিষ্ট কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও অন্য পক্ষ যদি তা গ্রহণ না করে, তাহলে সমুদ্রের বাস্তবতায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘ঘোষণা দেওয়া এক বিষয় আর নিরাপদ ও স্থিতিশীল চলাচল নিশ্চিত করা অন্য বিষয়।’
হংকং শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রিচার্ড হেক্স ইরানের পার্লামেন্টারি ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশনের বরাতে জানান, ইরান এই পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন’ হিসেবে গণ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত।’
যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের ঘোষিত উদ্দেশ্য হলো ‘চলাচলের স্বাধীনতা’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থে এই আত্মরক্ষামূলক মিশন অপরিহার্য। পাশাপাশি আমাদের নৌ অবরোধও বলবৎ থাকবে।’
‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এ নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ, শতাধিক বিমান এবং ১৫ হাজার সেনাসদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে সিএনএনকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাহাজগুলোকে পথ দেখিয়ে নেওয়ার এই কার্যক্রম কোনো ‘এসকর্ট মিশন’ বা সরাসরি পাহারা দেওয়ার কাজ নয়।
মার্কিন এই অভিযান ঠিক কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কোন কোন দেশ এর মাধ্যমে উপকৃত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: সিএনএন
এএম