ইরানের উত্তরাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতের পর পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ অবিস্ফোরিত বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয়ের দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার ও ধ্বংস করা এসব অস্ত্র যুদ্ধকালীন হামলার সময় আকাশ থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানজান প্রদেশে ৯ হাজার ৫০০টিরও বেশি বোমার টুকরো, পাশাপাশি বহু অবিস্ফোরিত রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ২ হাজার পাউন্ড ওজনের তিনটি জিবিইউ-৫৭ ধরনের বাংকার ধ্বংসকারী বোমাও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর জানায়, সংঘাত চলাকালে আকাশ থেকে ফেলা এসব অবিস্ফোরিত অস্ত্র বিশেষজ্ঞ দল উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করেছে। তারা আরও দাবি করে, বিরতির সময় এসব অপারেশন চালানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ক্লাস্টার বোমার অংশ হিসেবে ছড়িয়ে থাকা ৯ হাজার ৫০০টির বেশি বোমার খণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো দিয়ে প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে হামলা করা হয়েছিল।
এছাড়া এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা এলবি-৬৫, এলবি-৮৪, এলবি-৮৫ এবং এলবি-৮৬ ধরনের বিভিন্ন রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আইআরজিসি আরও জানায়, ৫২টি রকেট ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, ২ হাজার পাউন্ড ওজনের তিনটি জিবিইউ-৫৭ বাংকার ধ্বংসকারী বোমা ধ্বংস করা হয়েছে এবং একই ধরনের আরেকটি অক্ষত বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ৫০০ পাউন্ড ওজনের একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং একটি জিবি-৩৯ ধরনের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
আইআরজিসির দাবি, উন্নত মার্কিন ও ইসরাইলি যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা এসব অস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেগুলো উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এসআর