হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

লন্ডনে নাকবা দিবসের র‍্যালিতে আড়াই লাখ মানুষের অংশগ্রহণ

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: এএফপি

যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল লন্ডনে নাকবা দিবসের ৭৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক গণসমাবেশ ও মিছিলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

শনিবার এই কর্মসূচি চলাকালীন একই সময়ে কট্টর ডানপন্থি অ্যাক্টিভিস্ট টমি রবিনসনের নেতৃত্বে পৃথক একটি পাল্টা প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মেট্রোপলিটন পুলিশ এই সমাবেশগুলোকে কেন্দ্র করে ৪ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে। পুলিশ একে একটি ‘নজিরবিহীন’ গণ-নিরাপত্তা অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই বিক্ষোভের ঘটনায় ৩১ জনকে গ্রেফতারের কথা ঘোষণা করেছে পুলিশ। তবে গ্রেফতারকৃতরা কোন সমাবেশের তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি।

১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জায়নবাদী মিলিশিয়াদের হাতে ৭ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে তাদের ভূখণ্ড থেকে বিতাড়ন এবং ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যার ঘটনা স্মরণ করে প্রতি বছর এই ‘নাকবা দিবস’র মিছিলের আয়োজন করা হয়। ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন’সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের জোট এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

অন্যদিকে, রবিনসনের ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’র বিক্ষোভকে ‘একতা, সচেতনতা এবং যৌথ দায়িত্বের ওপর আলোকপাত করা একটি জননেতৃত্বাধীন সমাবেশ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

এর আগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউনাইট দ্য কিংডমের এক সমাবেশে কট্টর ডানপন্থি বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং মুসলিমবিরোধী স্লোগান দেয়, যার ফলে ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

কঠোর পুলিশি নজরদারিতে দুটি বিক্ষোভের জন্য আলাদা রুট নির্ধারণ করায় কেনসিংটন থেকে পল মল পর্যন্ত ফিলিস্তিনি পতাকা ও কেফিয়্যাহ জড়ানো বিক্ষোভকারীদের ভিড়ের মধ্যে কট্টর ডানপন্থি বিক্ষোভকারীদের খুব একটা দেখা যায়নি।

‘নাকবা ৭৮’ মিছিলের আয়োজকরা অংশগ্রহণকারীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তারা কট্টর ডানপন্থি বিক্ষোভকারীদের সাথে কোনো ধরনের বাকবিতণ্ডায় না জড়ান।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ‘ইউর পার্টি’র এমপি জারা সুলতানা ও জেরেমি করবিন, স্বতন্ত্র এমপি ডায়ান অ্যাবট এবং লেবার পার্টির এমপি জন ম্যাকডোনেল।

ম্যাকডোনেল মিডল ইস্ট আই-কে বলেন, ‘নাকবা দিবসের এই মিছিলটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গাজায় গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে এবং লন্ডনে কট্টর ডানপন্থিরা মিছিল করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এখন যা করতে হবে তা হলো আমাদের সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা, যাতে তারা দৃঢ় এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পদক্ষেপ দেখায়, কারণ তারা এখনো ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে অস্বীকার করছে।’

গাজার ফিলিস্তিনি শরণার্থী অধিকারকর্মী হালা হানিনা, যার পরিবার নাকবার সময় বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘নাকবা এখনো চলছে।’

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের অভিযান শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। তিনি বলেন, ‘গাজা এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, অন্যদিকে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিও অত্যন্ত খারাপ। আমাদের পরিবারের সদস্যরা এখনো প্রতিদিন নিহত হচ্ছেন এবং এই কারণেই আমাদের মিছিল চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।’

পুলিশের নতুন ক্ষমতা

উভয় মিছিলেই পুলিশকে কোনো অপরাধের সন্দেহ ছাড়াই তল্লাশি করার অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ আরো জানিয়েছে, একটি গণ-নিরাপত্তা রক্ষা কার্যক্রমে প্রথমবারের মতো লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন (মুখাবয়ব শনাক্তকরণ) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তবে তা আনুষ্ঠানিক মিছিলের রুটে করা হয়নি।

এ ছাড়া কর্মকর্তাদের উত্তর লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যকার এফএ কাপ ফাইনালের নিরাপত্তাও তদারকি করতে হয়েছে, যা বিকেল ৩টায় শুরু হয়।

মেট পুলিশের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার জেমস হারম্যান গত বুধবার বলেছিলেন, ‘ঘৃণা ছড়ায় বা সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার পক্ষে সমর্থন নির্দেশ করে-এমন স্লোগান এবং প্ল্যাকার্ড বা ব্যানারে ব্যবহৃত বাক্যাংশের বিরুদ্ধে আরো কঠোর অবস্থান নিতে পুলিশ কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিক্ষোভে ইন্তিফাদার ডাক দেওয়ার জন্য আমরা লোকজনকে গ্রেফতার ও অভিযুক্ত করেছি এবং এই মামলাগুলোর বেশ কয়েকটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।’

গত ৩০ এপ্রিল যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা’ (ইন্তিফাদার বিশ্বায়ন) স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানানোর পর ‘নাকবা ৭৮’ ছিল প্রথম কোনো বড় ফিলিস্তিনপন্থি মিছিল। প্রধানমন্ত্রীর ওই আহ্বানের পর ফিলিস্তিনপন্থি গোষ্ঠীগুলো এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল।

২৯ এপ্রিল উত্তর লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিনে এক হামলার ঘটনার পর স্টারমার বলেছিলেন, ‘আপনি যদি এমন লোকদের পাশে দাঁড়ান যারা গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা বলে, তবে আপনি ইহুদিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের আহ্বান জানাচ্ছেন।’

উল্লেখ্য, ওই হামলায় এক হামলাকারী দু’জন ইহুদি এবং একজন মুসলিম ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেছিল, তবে সে ওই স্লোগানটি ব্যবহার করেনি।

বৃহস্পতিবার বিশিষ্ট ব্রিটিশ ফিলিস্তিনি ও আরবরা শনিবারের বিক্ষোভের সময় তাদের সম্প্রদায়কে ঘৃণামূলক অপরাধ থেকে ‘সমান সুরক্ষা’ নিশ্চিত করার জন্য স্টারমারের প্রতি আহ্বান জানান।

৫০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের ভয়কে গৌণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বা আমাদের শান্তিপূর্ণ স্মরণসভাকে কেবল একটি পুলিশি সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, এটা অনুভব করা বেদনাদায়ক।’

ম্যাকডোনেল বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সরকার আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপকভাবে ঘটে চলা ইসলামোফোবিয়া (ইসলামভীতি)-কে স্বীকার করতে ব্যর্থতা প্রদর্শন করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘লেবার পার্টির নিশ্চিত করা দরকার যেভাবে আমরা ইহুদি-বিদ্বেষ এবং অন্যান্য বর্ণবাদের মোকাবিলা করি, ঠিক একইভাবে ইসলামোফোবিয়াও আমাদের সমতার লড়াইয়ের কেন্দ্রে থাকবে। আমি মনে করি না যে এটি এ পর্যন্ত পর্যাপ্ত অগ্রাধিকার পেয়েছে।’

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এএম

পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল

তিউনিসিয়া ও তুরস্কে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা

পার্ক বানাবে ইসরাইল, নিজেদের বাড়ি ভাঙতে বাধ্য হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা

ইরানি দ্বীপ দখল করতে আমিরাতকে পরামর্শ দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন

পশ্চিমাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠী

ইসরাইল প্রতিষ্ঠার ভিডিও প্রকাশ করলেন জোহরান মামদানি

মধ্যপ্রাচ্যে স্বল্প খরচে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা করল যুক্তরাজ্য

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে ইসরাইলের অবিরাম হামলা

হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণে লেবানন ও ইসরাইলের ভিন্ন সুর

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত প্রায় ৩ হাজার