হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

নেতানিয়াহু কি সরকার গঠন করতে পারবেন

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: আলজাজিরা

ইসরাইলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারেনি। ৫৫টি আসন নিয়ে ভোট গণনায় এগিয়ে রয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ নেতৃত্বাধীন জোট। তবে তা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট নয়। বিরোধী দলগুলোর দখলে ৪৯টি এবং আরব দলগুলোর পেয়েছে ১৬টি আসন।

দ্য টাইমস অব ইসরাইলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৬টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৪৯টিতে। ফলে কোনো পক্ষেরই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

নেতানিয়াহু বলেন, নির্বাচনের ‘প্রকৃত ফলাফল’ জানতে আরও এক থেকে দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী লিকুদই ইসরাইলের পার্লামেন্টে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।

ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেল-১২ ও ১৩-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, আইজেনকটের ইয়াশার পার্টির আসনসংখ্যা হতে পারে ২১। এতে অন্যান্য দলের তুলনায় স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে লিকুদ।

‘মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিয়েছি’

মঙ্গলবার পশ্চিম জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু ২০২২ সালে বর্তমান মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর তার সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার সরকার এমন সব পদক্ষেপ নিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা এমন সব অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছি, যা মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিয়েছে। আমরা দেইফ, হানিয়া, সিনওয়ার, নাসরাল্লাহ এবং খামেনিকে নির্মূল করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার গভীরে আমরা নিরাপত্তাবলয় প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের ওপর ঝুলে থাকা তাৎক্ষণিক অস্তিত্বগত হুমকি—অর্থাৎ আসন্ন ধ্বংসের আশঙ্কা—আমরা দূর করেছি। ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়ে তাদের অতল গহ্বরের কিনারায় নিয়ে গেছি। ইরান এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল, আর ইসরাইল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী।’

নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের হুমকি চিরতরে দূর করার ক্ষেত্রে ইসরাইলের সামনে একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ তৈরি হয়েছে।

অস্বস্তিকর জোট গঠনের আশঙ্কা

ইসরাইলের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও নিউইয়র্কে দেশটির সাবেক কনসাল জেনারেল অ্যালন পিঙ্কাস বলেন, নির্বাচনে যে পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাবে, সরকার গঠনের জন্য তাদের এমন কোনো জোটের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর।

তবে তিনি বলেন, বিরোধী শিবিরের ভোটাররা নেতানিয়াহুর জোটের সঙ্গে সমঝোতা করার বিষয়টি মেনে নিতে চাইবেন না।

আলজাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, জেরুজালেমে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু নিজের দলের নির্বাচনি অবস্থান নিয়ে একধরনের ‘সাহসী ভাব’ দেখানোর চেষ্টা করেছেন।

বিশারা বলেন, ‘স্পষ্টতই তিনি পরিস্থিতিকে নিজের অনুকূলে সফলতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, যদিও সেই সাফল্যের দাবির যথেষ্ট ভিত্তি নেই। প্রথমত, তিনি সরকার গঠনের মতো জোট তৈরি করতে পারছেন না। দ্বিতীয়ত, লিকুদ ইসরাইলের সবচেয়ে বড় দল—এই বিষয়টি সামনে এনে তিনি আড়াল করতে চাইছেন যে ২০০৯ সালের পর দলটি এবারই সবচেয়ে কম আসন পাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড্যান পেরিও আলজাজিরাকে বলেন, নির্বাচনের বুথফেরত জরিপ প্রকাশের পর নেতানিয়াহু তার বক্তব্যের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে যতটা সম্ভব নিজের অনুকূলে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

প্রেসিডেন্ট কাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন

প্রেসিডেন্ট কাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন তা এখনো তা নিশ্চিত নয়।

৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে তিনি মনে করবেন, তাকেই দায়িত্ব দেবেন।

তবে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই যে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটকে সম্ভাব্য দুই প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকার গঠনের জন্য কত সময় পাওয়া যাবে

সরকার গঠনের জন্য মনোনীত প্রার্থী সর্বোচ্চ ৪২ দিন সময় পাবেন। শুরুতে তাকে ২৮ দিন সময় দেওয়া হবে। প্রেসিডেন্ট চাইলে তা আরও ১৪ দিন বাড়াতে পারবেন।

এ সময় দলগুলোর মধ্যে নিবিড় আলোচনা ও দর-কষাকষি চলবে। সরকার গঠনের সমর্থন আদায়ে দলগুলো নীতিগত ছাড় এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ দাবি করতে পারে।

কোনো প্রার্থী ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলেও ছোট দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে দুই নেতার মধ্যে মেয়াদ ভাগাভাগি করে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সমঝোতাও হতে পারে।

নতুন সরকারকে দায়িত্ব নিতে হলে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। কিছু সদস্য ভোটদানে বিরত থাকলে ৬১টির কম ভোট পেয়েও সরকার আস্থা ভোটে জয়ী হতে পারে।

আরএ

ইসরাইলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর চমক

ইসরাইলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না কেউ, এখন কী হবে

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ছাড়াল

শক্তিশালী জাতীয় সরকার গঠন করা হবে, নেতানিয়াহুর ঘোষণা

ইসরাইলের নির্বাচনে এগিয়ে নেতানিয়াহু জোট, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কেউই

সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না নেতানিয়াহু বা বিরোধী জোট, রেকর্ড-সংখ্যক আসন পাচ্ছে আরব দলগুলো

ভোটে হেরে যাওয়ার শঙ্কায় নেতানিয়াহু

হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই হবে: সর্বোচ্চ নেতা

আরব অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার উপস্থিতি বেশি, উদ্বিগ্ন নেতানিয়াহু

হামলা বন্ধে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির