ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেট (ইসরাইলের সংসদ) ভেঙে আগাম নির্বাচনের পথ আরো এক ধাপ এগিয়েছে। বুধবার নেসেটে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে আগাম নির্বাচন আয়োজনের একটি বিল প্রাথমিক ভোটে পাস হয়েছে। ১২০ সদস্যের নেসেটে বিলটির পক্ষে ভোট দেন ১১০ জন আইনপ্রণেতা।
তবে বিলটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। প্রাথমিক ভোটে পাসের পর এটি পরবর্তী ধাপে কমিটিতে পাঠানো হবে এবং অন্য যেকোনো আইনের মতোই প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখনো অক্টোবরের শেষ দিকে নির্ধারিত সময়েই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক এমন অবস্থান ধরে রেখেছেন। তাই বিলটি প্রাথমিকভাবে পাস হলেও তিনি অতিধর্মীয় ইহুদি (হারেদি) দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন, যাতে পার্লামেন্ট ভাঙার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা যায়।
নেসেটের কার্যসূচিতে একাধিক বিলুপ্তি বিল থাকলেও বর্তমানে হারেদি দলগুলো বিরোধী দলের উত্থাপিত বিলের পক্ষে ভোট দিতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।
নেসেটের আইন উপদেষ্টার মতে, পার্লামেন্ট বিলুপ্তির ভোটের পর অন্য কোনো আইন অগ্রসর করতে সর্বসম্মতির প্রয়োজন হয়। তবে প্রচলিত ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, এই বিধান কেবল বিলুপ্তি আইনের তৃতীয় ও চূড়ান্ত পাঠ পাস হওয়ার পর কার্যকর হয়। ফলে এর আগ পর্যন্ত সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
এমন কয়েকটি বিতর্কিত বিলের মধ্যে রয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা বিভক্ত করার প্রস্তাব, যা এগিয়ে নিচ্ছেন রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টির সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান সিমচা রথম্যান। এছাড়া লিকুদ দলের মোশে সাদার একটি বিল রয়েছে, যাতে পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ইউনিটকে বিচারমন্ত্রীর অধীনে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
যোগাযোগমন্ত্রী শ্লোমো কারহির গণমাধ্যম সংস্কার বিল এবং পশ্চিম তীরে প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
তবে এসব বিল পাসের জন্য হারেদি দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন হবে। গত গ্রীষ্মকাল থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে তারা জোট সরকারের ভোট বর্জন করে আসছে এবং চলতি সপ্তাহেও পার্লামেন্টে সরকারের পক্ষে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যদিও বিচারব্যবস্থা ও অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগে তারা সমর্থন দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বুধবার সকালে নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে এমন একটি বিল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, যার মাধ্যমে হারেদি ইহুদি পুরুষদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ থেকে কার্যত অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। হারেদি দলগুলোকে সন্তুষ্ট করতেই নেতানিয়াহু এই বিলটি আলোচনায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ বাড়ানোর আরেকটি বিল নিয়েও বুধবার এক ঘণ্টার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: হারেৎজ
এআরবি