গাজায় ‘কোনো নিরপরাধ মানুষ নেই’ এবং ইসরাইলের উচিত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে ‘দুই সপ্তাহ বয়সী শিশুদেরকেও হত্যা করা’। সম্প্রতি একদল তরুণ ইসরাইলি তাকে এমন কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ।
বুধবার এক সাক্ষাৎকারে ল্যাপিড বলেন, সম্প্রতি তিনি তরুণ-তরুণীদের একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি তাদের বলতে শোনেন, ‘তাদের সবাইকে হত্যা করতে হবে’ এবং ‘কোনো নিরপরাধ মানুষ নেই’—এমন বক্তব্য।
ল্যাপিড বলেন, তিনি তাদের প্রশ্ন করেছিলেন, ‘শিশুদের কী হবে?’ জবাবে তারা বলেছিল, ‘শিশুদেরও, কারণ শেষ পর্যন্ত তারা বড় হয়ে সন্ত্রাসী হবে।’ লাপিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এমনকি দুই সপ্তাহ বয়সী শিশুর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য বলে তারা জানিয়েছিল।
লাপিদ বলেন, ‘তাহলে তো হামাসই জিতল। কারণ এগুলো হামাসেরই মানদণ্ড। তারা এটাই চেয়েছিল—যেন আমরাও তাদের মতো হয়ে যাই।’
তিনি বলেন, যেসব ইসরাইলি মন্ত্রী ও কর্মকর্তা শিশুদের অনাহারে রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের ব্যর্থতা অভ্যন্তরীণ ক্ষতি ডেকে এনেছে। এর ফলে হামাস থেকে নিজেদের আলাদা করার মতো কোনো নৈতিক বা মূল্যবোধ-ভিত্তিক মানদণ্ড নির্ধারণে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি।
২০২২ সালের শেষের দিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুনরায় ক্ষমতায় আসার আগে পাঁচ মাস প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন লাপিদ। তিনি বলেন, গত তিন বছরে সরকারের কর্মকাণ্ডের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে।
তবে ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে তরুণ ইসরাইলিদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও তিনি সমানভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানান। গাজায় তিন বছর ধরে চলা ‘গণহত্যার’ পর তরুণরা ফিলিস্তিনিদের কীভাবে দেখছে, তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
লাপিদ বলেন, গাজায় ইসরাইল একটি ‘ন্যায্য’ যুদ্ধ পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা চালানোর যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা তিনি ‘অর্থহীন’ বলে অভিহিত করেন। তবে তার ভাষায়, ‘প্রাপ্তবয়স্কদের যুদ্ধে শিশুদের মারা যাওয়া উচিত নয়—কোনো অবস্থাতেই নয়।’
ল্যাপিডের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বিভিন্ন গবেষণা ও জনমত জরিপে ইসরায়েলের তরুণদের মধ্যে তাদের বাবা-মায়ের প্রজন্মের তুলনায় বেশি ডানপন্থি মনোভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গত মাসের বিভিন্ন ঘটনাও এই প্রবণতার একটি চিত্র তুলে ধরেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক এক জরিপে ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী ইহুদি ইসরাইলিদের ৭৪ শতাংশ নিজেদের ডানপন্থি অথবা মধ্য-ডানপন্থি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
আরএ