হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইয়েমেনে হতাহত ৯ হাজারের বেশি, বাস্তুচ্যুত ২ লাখ ৭৬ হাজার

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন

মিডল ইস্ট মনিটর

ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় নিহত ও আহতের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি মানুষ। সংঘাতের কারণে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে তাইজ প্রদেশে ওষুধ, জ্বালানি ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, গত ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনায় ১ হাজার ৬৭৭ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৩৯৫ জন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে হতাহত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭২ জনে। মাত্র ছয় দিনেই নতুন করে ৫৫৯ জন হতাহত হয়েছেন।

পর্যালোচনাধীন সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৯৩ জন হতাহত হয়েছেন। আগের প্রতিবেদনে দৈনিক হতাহতের গড় সংখ্যা ছিল ১৬৮। অর্থাৎ হতাহতের দৈনিক গড় সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এলেও দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে এখনো প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনভুক্ত প্রদেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মারিবে। সেখানে মোট ১৪৩ জন হতাহতের মধ্যে নিহত হয়েছেন ৪৫ জন। এরপর রয়েছে তাইজ প্রদেশ। সেখানে ২৩৭ জন হতাহতের মধ্যে ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া লাহজ প্রদেশে ১৫৮ জন হতাহতের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন।

এদিকে গত ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ইয়েমেনজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৩০১ জনে। তাদের মধ্যে ৪৬ হাজারের বেশি পরিবার রয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রায় ৪৬ শতাংশ আশ্রয় নিয়েছেন তাইজ প্রদেশে।

এডেন থেকে তাইজ ও দেশটির পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতের পথে বিধিনিষেধ থাকায় ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে। ওষুধ, জ্বালানি ও পানির তীব্র সংকটের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। মারিব প্রদেশের ৩১টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ছয়টি এখনো চালু রয়েছে। ফলে সংঘাতে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ইয়েমেনে চলমান এই পরিস্থিতির সূত্রপাত গত জুনের শেষ দিকে। ওই সময় দেশটির সরকারি বাহিনী ও হুথি আন্দোলনের যোদ্ধাদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর থেকে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সামরিক উত্তেজনা ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরো বিপর্যস্ত হতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসাসামগ্রী, জ্বালানি ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

‘আমার জীবনও ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছে’Ñপরিবারের ১২ সদস্য হারানো ইরানি যুবক

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ২২ দেশে বন্দরের শ্রমিকদের ধর্মঘট

ইরানের সাত শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগোবে না: গালিবাফ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা পুনরুজ্জীবনে তেহরানে কাতারের প্রতিনিধিদল

হরমুজে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার আটকের দাবি আইআরজিসির

ইসরাইলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, উদ্বিগ্ন ভারত

আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ নেতানিয়াহুর

সিনজারের সংকট কি এবার সমাধান করতে পারবে বাগদাদ

আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের দাবিতে আইজেনকোটের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ