হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

অ্যানিমেটেড মানচিত্রে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বসতি বিস্তারের চিত্র

আল-জাজিরা

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলি বসতি কীভাবে কয়েক দশকে বিস্তৃত হয়েছে, তা একটি অ্যানিমেটেড মানচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেছে আলজাজিরা। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে এসব এলাকায় প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ইসরাইলি বসবাস করছে এবং বসতি ও অবৈধ আউটপোস্টের সংখ্যা ৫০০-এর বেশি।

১৯৬৭ সালে ইসরাইল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর বসতি সম্প্রসারণ দ্রুত বাড়তে থাকে। গত ছয় দশকে বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি বসতিগুলো ধীরে ধীরে সড়ক ও মহাসড়কের নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে একটি বিস্তৃত বসতি কাঠামো তৈরি করেছে।

ইসরাইলি বসতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা পিস নাউয়ের তথ্য অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে অন্তত ১৪৮টি এবং পূর্ব জেরুজালেমে ১৫টি—মোট ১৬৩টি ইসরাইলি বসতি রয়েছে। ২০২৪ সালের হিসাবে এসব বসতিতে প্রায় ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৭০০ ইসরাইলি বসবাস করছিলেন। এর বাইরে ৪০০টিরও বেশি অবৈধ আউটপোস্ট রয়েছে, যেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সব সময় বসতি হিসেবে গণনা করা হয় না।

২০২৫ সালেই অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিদ্যমান বসতিগুলোতে প্রায় ২৮ হাজার আবাসিক ইউনিটের নির্মাণ অগ্রসর করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন আউটপোস্ট স্থাপনের প্রবণতাও অব্যাহত রয়েছে। ছোট এসব আউটপোস্টের অনেকগুলো পরবর্তী সময়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেয়ে বিদ্যমান বসতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ। চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের অধীনে দখলদার শক্তির নিজস্ব জনগোষ্ঠীকে দখলকৃত ভূখণ্ডে স্থানান্তর নিষিদ্ধ। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিও ইসরাইলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পরামর্শমূলক মতামতেও এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বসতি সম্প্রসারণের ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক সংযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বসতিগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করতে নির্মিত সড়ক ও বাইপাস সড়ক ফিলিস্তিনি জনপদকে বিচ্ছিন্ন করছে। এর সঙ্গে চেকপয়েন্ট ও সড়ক অবরোধ যুক্ত হওয়ায় ফিলিস্তিনিদের চলাচলও সীমিত হচ্ছে।

এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ পূর্ব জেরুজালেমের পূর্বদিকে অবস্থিত ই-১ এলাকা। সেখানে মালে আদুমিম বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পূর্ব জেরুজালেম পশ্চিম তীরের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ই-১ প্রকল্পে ৩ হাজারের বেশি নতুন আবাসন নির্মাণের অনুমোদন দেন। প্রায় ৩০টি সরকার ও ইউরোপীয় কমিশন ওই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানায়।

বসতি সম্প্রসারণের পাশাপাশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলাও বেড়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর বা ওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো ১ হাজার ৮৩৬টি বসতি-সংক্রান্ত হামলা নথিভুক্ত হয়। ২০২২ সালে এ ধরনের হামলার সংখ্যা ছিল ৮৫২। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ১৩১টি হামলা রেকর্ড করা হয়েছে। শুধু ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৪১৮টি হামলা নথিভুক্ত হয়েছে।

বসতি ও আউটপোস্টের বিস্তার এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা আলাদা দুটি প্রক্রিয়া হলেও উভয়টি মিলে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের একটি বৃহত্তর চিত্র তুলে ধরে।

পবিত্র কাবায় বৃষ্টিতে ভিজে নামাজ আদায় মুসল্লিদের

আরো কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিলেন হুথি বিদ্রোহীরা

গাজার শিক্ষাব্যবস্থা ইউনেস্কোর কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা নেই: জাতিসংঘ

গাজার যুদ্ধ যেভাবে বদলে দিয়েছে ফিলিস্তিনি পুরুষদের জীবন

সৌদিতে ক্যামেল ফেস্টিভালে ১৩১ মিলিয়ন ডলারের ১১৪ উট

জ্বালানি সরবরাহ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনছে সিরিয়া

উপসাগরীয় দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান সৌদি-আমিরাতের

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সিরিয়ার বিমান চলাচল, নতুন রুট ও বিমানবন্দর প্রকল্পে অগ্রগতি

ইয়েমেনে এক দিনে ৫৮ বার বিমান অভিযান চালিয়েছে সৌদি

অনিশ্চিত গতিপথে ইরান যুদ্ধ, শেষ পরিণতি আসলে কী