ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের উৎস ও অস্থিতিশীল অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীলতা নিয়ে দেশগুলোকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এই পরিস্থিতির প্রভাবে এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।
যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট অচলাবস্থার সুযোগে মার্কিন জ্বালানি রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ‘ওপেক’ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। গত ১ মে থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তকে বিশ্ব তেলের বাজারে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব এখন হরমুজ প্রণালির বিশৃঙ্খলার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে শীর্ষ জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে নিজের অবস্থান মজবুত করছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এই পরিস্থিতিকে ‘ইতিহাসের বৃহত্তম বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
হরমুজ প্রণালির এই সংকট বিশ্ব জ্বালানি ক্রমবিন্যাসকে (এনার্জি অর্ডার) স্থায়ীভাবে বদলে দিতে পারে কি না, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওপেকের ভাঙন এবং বিকল্প সরবরাহ রুটের সন্ধান এই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: আলজাজিরা
এএম