হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

পার্ক বানাবে ইসরাইল, নিজেদের বাড়ি ভাঙতে বাধ্য হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা

আমার দেশ অনলাইন

ছবি : দ্য গার্ডিয়ান

জেরুজালেমের ওল্ড সিটির প্রাচীন দেওয়ালের ঠিক নিচে অবস্থিত আল-বুস্তান এলাকায় ফিলিস্তিনিদের নিজেদের পারিবারিক বাড়িঘর নিজেদেরই ভেঙে ফেলতে হচ্ছে। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে পুরোপুরি একটি ইহুদি পরিচয় দিতে এবং ফিলিস্তিনিদের চিহ্ন মুছে ফেলতে ইসরাইল যে তৎপরতা চালাচ্ছে, এটি তারই অংশ।

সাধারণত বুলডোজার বা ভাঙার যন্ত্রের চালকের আসনে ইসরাইলি রাষ্ট্র বা পৌরসভার কর্মীরা থাকলেও, আল-আকসা মসজিদের ছায়াতলে অবস্থিত আল-বুস্তান মহল্লায় চিত্রটি ভিন্ন। সেখানে মোটা অঙ্কের জরিমানার হাত থেকে বাঁচতে ফিলিস্তিনিরাই নিজেদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করছেন।

জালাল আল-তাওয়িল নামের এক বাসিন্দা তার বাবার তৈরি করা বাড়ির শেষ অংশটি ভেঙে ফেলার দৃশ্য দেখে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত কঠিন ও তিক্ত একটি অভিজ্ঞতা।’

জেরুজালেম পৌরসভা তাকে জানিয়েছিল, তাদের কর্মীরা এই বাড়িটি ভাঙলে তাওয়িলকে ২ লাখ ৮০ হাজার শেকেল বা ৭২ হাজার পাউন্ড খরচ দিতে হবে। আর নিজে শ্রমিক ও যন্ত্রপাতি ভাড়া করে ভাঙলে তার এক-দশমাংশেরও কম খরচ হয়।

তাওয়িল একে ‘আত্মহত্যা বা খুন হওয়ার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার মতো’ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন।

পূর্ব জেরুজালেমের বৃহত্তর সিলওয়ান জেলার অংশ আল-বুস্তানে গত দুই বছরে ৫৭টিরও বেশি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরো অন্তত আটটি বাড়ি ভাঙার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জায়গায় ‘কিংস গার্ডেন’ নামের একটি বাইবেলীয় থিম পার্ক তৈরি করা হবে, যা ৩ হাজার বছর আগের রাজা সোলায়মানের আমোদপ্রমোদের স্থান বলে দাবি করা হচ্ছে। এই পার্কটি জেরুজালেমের কেবল ইহুদি অতীতকে তুলে ধরার একটি প্রত্নতাত্ত্বিক প্রকল্পের অংশ।

জেরুজালেমের সম-অধিকার নিয়ে কাজ করা ‘ইর আমিম’ সংস্থার জ্যেষ্ঠ গবেষক আভিভ তাতারস্কি বলেন, আল-বুস্তানের ঘটনাটি ভূগোল ও ইতিহাস থেকে ফিলিস্তিনিদের মুছে ফেলার একটি উদাহরণ।

তিনি বলেন, ‘ইসরাইল জেরুজালেমের বহু-জাতিগত ও বহু-সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে স্বীকার করতে রাজি নয়। তারা ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে সেখানে একটি কৃত্রিম বিনোদন কেন্দ্র বানাচ্ছে।’

গত দুই দশক ধরে এই কিংস গার্ডেন থিম পার্কের পরিকল্পনা থাকলেও ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক বিরোধিতা এবং ইসরাইলি রাজনীতির অভ্যন্তরীণ দ্বিধার কারণে এত দিন বুলডোজারগুলো আটকে ছিল। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলা, পরবর্তী গাজা যুদ্ধ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সব বাধাই কেটে গেছে।

৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ কাওয়াইদার নামের এক বাসিন্দা পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট করার আশায় তার অর্ধ-শতাব্দী পুরোনো বাড়ির একটি অংশ নিজে ভেঙে ফেলেছেন। কিন্তু এই সপ্তাহেও পৌরসভা থেকে তাকে পুরো বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তারা যদি আমাদের বাড়ি ভেঙেও দেয়, আমরা তাঁবু খাটিয়ে থাকব, কিন্তু জমি ছাড়ব না।’

তার ৯৭ বছর বয়সী পক্ষাঘাতগ্রস্ত মা ইউসরা কাওয়াইদারের জীবন ফিলিস্তিনের আধুনিক ইতিহাসের প্রতীক। ১৯৪৮ সালে ‘নাকবা’র (বিপর্যয়) সময় তিনি জাফা থেকে সপরিবারে বাস্তুচ্যুত হন। এরপর ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে তারা দ্বিতীয়বার বাস্তুচ্যুত হন এবং ১৯৭০ সালে ওল্ড সিটির ইহুদি কোয়ার্টারে আশ্রয় নিলেও তিন বছর পর আবার উচ্ছেদ হন।

ইউসরা বলেন, ‘এখান থেকে আমরা আর কোথাও যাচ্ছি না।’

কমিউনিটি নেতা ফখরি আবু দিয়াব ২০২৪ সালে তার বাড়ি ভাঙার পর এখন ধ্বংসস্তূপের ওপর একটি পোর্টেবল কেবিনে বাস করছেন। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের অতীত, স্মৃতি, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ ভেঙে দিয়েছে।’

বাড়ি ভাঙার খরচ বাবদ পৌরসভাকে এখনো প্রতি মাসে ৪ হাজার শেকেল জরিমানা দিতে হচ্ছে তাকে। এমনকি বাড়ি ভাঙার সময় সেখানে দায়িত্ব পালন করা পুলিশের খাওয়া স্যান্ডউইচের জন্য ৯ হাজার শেকেলও তাকে দিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে জেরুজালেম পৌরসভা জানিয়েছে, এই থিম পার্কটি শহরের সব বাসিন্দার সুবিধার জন্য তৈরি করা হচ্ছে এবং আল-বুস্তানের বাড়িগুলো অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল। তারা দাবি করে, এই এলাকাটি কখনোই আবাসিক ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল না এবং তারা বাসিন্দাদের বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করলেও বাসিন্দারা আগ্রহ দেখাননি।

এর জবাবে আবু দিয়াব বলেন, এই এলাকার জন্য তারা অনেক আগেই পর্যাপ্ত সবুজ এলাকাসহ একটি মাস্টার প্ল্যান জমা দিয়েছিলেন, যা রাজনৈতিক স্তরে বাতিল করা হয়। এছাড়া ফিলিস্তিনিদের জন্য পূর্ব জেরুজালেমে আবাসন অনুমতি দেওয়া প্রায় বন্ধ রাখা হলেও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য তা প্রতিনিয়ত অনুমোদন করা হয়।

আবু দিয়াবের স্ত্রী আমিনা আবু দিয়াব, যিনি একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজকর্মী, তিনি গৃহহীন ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়া শিশুদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি বাড়ি হলো শিশুর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। সেটি ভেঙে দিলে তার নিরাপত্তার অনুভূতি নষ্ট হয়ে যায়।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

এএম

হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করল ইরান

গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত

পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল

তিউনিসিয়া ও তুরস্কে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা

ইরানি দ্বীপ দখল করতে আমিরাতকে পরামর্শ দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন

লন্ডনে নাকবা দিবসের র‍্যালিতে আড়াই লাখ মানুষের অংশগ্রহণ

পশ্চিমাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠী

ইসরাইল প্রতিষ্ঠার ভিডিও প্রকাশ করলেন জোহরান মামদানি

মধ্যপ্রাচ্যে স্বল্প খরচে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা করল যুক্তরাজ্য

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে ইসরাইলের অবিরাম হামলা