মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা আরো বেড়েই চলেছে। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হুমকিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি ‘বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে’ এবং সপ্তাহান্তে নতুন করে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, সামনে ‘কিছু ভালো খবর’ আসতে পারে।
তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছেন, ‘ইরানের সঙ্গে লেনদেন শতভাগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত’ ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।
অন্যদিকে ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সমালোচনা করে ট্রাম্পের বিজয় দাবি ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালি আর খোলা থাকবে না।
এদিকে ইউরোপীয় পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও কিয়ার স্টারমার প্যারিস থেকে প্রায় ৪০টি দেশের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল প্রণালিটি খোলা রাখতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ।
স্টারমার জানান, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স যৌথভাবে একটি আন্তর্জাতিক মিশনের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত, যা এই জলপথে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে—তবে তা হবে ‘কঠোরভাবে শান্তিপূর্ণ ও আত্মরক্ষামূলক’ পদ্ধতিতে।
এদিকে ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, শি জিনপিং হরমুজ প্রণালি খোলা থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প আরও জানান, আগামী ১৪-১৫ মে চীনে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠকটি ‘বিশেষ এবং সম্ভবত ঐতিহাসিক’ হতে পারে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে একদিকে যেমন কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপও অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সূত্র: বিবিসি
এমপি