ইরানের সাধারণ মানুষ নতুন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির পরমাণু নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তেহরানের জুমার নামাজের ভারপ্রাপ্ত খতিব মোহাম্মদ জাভাদ হাজ আলি আকবারি।
শুক্রবার তেহরানে জুমার নামাজের খুতবায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে বলেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো কিংবা মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের অর্থ এই নয় যে, ইরানকে সতর্ক অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে।
তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র যখন আলোচনার কথা বলে এবং বার্তা পাঠায়, তখন অনেক সময় প্রকাশ্যে যুদ্ধের হুমকি দেওয়ার চেয়েও বড় কোনো বিপদ বা ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা থাকে।
ইরানের পরমাণু নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে হাজ আলি আকবারি বলেন, এ প্রস্তাব কোনো তড়িঘড়ি বা আবেগতাড়িত সিদ্ধান্তের ফল নয়। বরং এটি জাতীয় পরিপক্বতা ও সচেতনতার বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, ইরানের শত্রুরা দেশটির সব ধরনের রেড লাইন অতিক্রম করেছে, ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করেছে এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
খতিব বলেন, প্রতিপক্ষের কর্মকাণ্ডের কারণে ইরানি জনগণ বছরের পর বছর ধরে নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। এ কারণে এখন তারা আরও সচেতনভাবে পরমাণু নীতি পুনর্বিবেচনার বিষয়টি সামনে আনছে। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধক্ষমতা জোরদারের অন্যতম উপায় হিসেবেই তারা বিষয়টিকে দেখছে।
হাজ আলি আকবারি বলেন, মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার থেকেই ইরানি জনগণের এ দাবি উঠে এসেছে। এ প্রস্তাবের বিষয়ে কেউ কেউ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখালেও এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা মহলের দাবি নয়; বরং পুরো জাতির আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
তিনি জানান, অতীতে পরিচালিত কয়েকটি জরিপে ৭০ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা ইরানের পরমাণু নীতি পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও এ বিষয়ে সমর্থন ও দাবি জোরালো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলের শিক্ষার্থী, অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরাও এ দাবির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।
এটিকে জাতীয় দাবি হিসেবে অভিহিত করে হাজ আলি আকবারি শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের বিষয়টি নিয়ে গবেষণা এবং সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও পরিকল্পনা তুলে ধরার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রস্তাবগুলো ইসলামি বিপ্লবের নেতা মুজতবা হোসেইনি খামেনির কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
তেহরানের জুমার নামাজের অন্তর্বর্তী খতিব বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন সর্বোচ্চ নেতা এবং তার সিদ্ধান্ত সবাই মেনে চলবে। তার নেতৃত্বেই সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।