সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী এম নাসের রহমান বলেছেন, ধানের শীষ ছাড়া আপনাদের দেখভাল করার কেউ নাই। ধানের শীষ ছাড়া আপনাদের দেখভাল করবে কে? বিএনপি ছাড়া তো আপনাদের পাশে কে আছে? এই জামায়াতে ইসলামী কখনোই এদেশের ক্ষমতায় আসবে না। আর যদি কোনোভাবে ক্ষমতায় আসে, তাহলে আপনারা এদেশে শান্তিতে থাকতে পারবেন না।
বুধবার দুপুরে শহরের এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
দুটি সভাতেই হিন্দু নেতৃবৃন্দ ধানের শীষের পক্ষে ভোট ও সমর্থনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। গতরাতের সভায় নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেওয়া দিকনির্দেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
নিজের নির্বাচনি এলাকার ভোটার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকায় মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৬ হাজার। এর মধ্যে হিন্দু ভোটার ৯২ হাজার ৫৬ জন। চা-শ্রমিক ভাই-বোনরা প্রায় ৪০ হাজার। বাগানের শ্রমিক ভাই-বোনেরা প্রায় শতভাগ সমর্থন আমাকে ইতোমধ্যে দিয়েছেন। ভবিষ্যতের জন্য ধানের শীষ ছাড়া আপনাদের যথাযথ মূল্যায়ন আর কে করবে? আপনারা অনেক সময় আমাদের ভোট দেন না জেনেও আমরা অতীতেও আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনও আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। আপনাদের পূজা-পার্বণ ও ধর্মীয় উৎসবে আমরা সব সময় পাশে থেকেছি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে এম নাসের রহমান বলেন, “একসময় বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ১১–১২ শতাংশ, এখন কমে এসেছে ৮–৯ শতাংশে। অনেকেই দেশ ছেড়ে ওপারে চলে যাচ্ছেন। আমার একটা প্লান আছে—আমি আমার নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবো। ভবিষ্যতে হিন্দু ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে রিজার্ভ সিটের বিষয়টি চিন্তা করে দেখা যায় কি না।”
তিনি বলেন, যদি ৮–১০ শতাংশ হিন্দু ভোটার থাকে, তাহলে জাতীয় সংসদে আপনারা দুই–তিনজনের জায়গায় নয়, ৮–৯ জনের মতো প্রতিনিধিত্ব পেতে পারেন। এটা আমরা আলোচনা করে দেখতে পারি। এই কাজটা আওয়ামী লীগের করা উচিত ছিল। কিন্তু তারা আপনাদের কাঁধে বসে বসে মধু খেয়েছে। কিন্তু দল হিসেবে কিছুই পাননি।
মৌলভীবাজার জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার দাশের সভাপতিত্বে এবং রাজনগর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুপক দেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত দিনের সভায় বক্তব্য দেন জেলা বারের সিনিয়র অ্যাডভোকেট শান্তিপদ ঘোষ, রাজনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রজত কান্তি গোস্বামী, ধর্মীয় পণ্ডিত নিরঞ্জন গোস্বামী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রুনুকান্ত দত্ত, সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শ্যামলী সূত্রধর, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী, পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ মোহন পাল, অ্যাডভোকেট রজত কান্তি অর্জুনসহ সনাতন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মহিম দে’র সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, সদস্য বকসী মিসবাউর রহমান, স্বাগত কিশোর দাশ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আশু রঞ্জন দাশ, রাজনগর উপজেলা শাখার সভাপতি অসিত দেব, সদর উপজেলা শাখার সদস্য সচিব শ্যামল কান্তি দাশ, জেলা কমিটির সদস্য জ্যোতিষ রায়, রাজনগর উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর আদিত্য, জেলা কমিটির সদস্য সত্য নারায়ণ নাইডু, সদর উপজেলার ১ নম্বর খলিলপুর ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি শেখর দত্ত পুলক, ১১ নম্বর মোস্তফাপুর ইউনিয়ন কমিটির সদস্য হিমাংশু সূত্রধর, ১ নম্বর ফতেহপুর ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিপন দাস ও জেলা কমিটির সদস্য রঞ্জিত বৈদ্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

