আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

চুরি ছাড়া জামায়াতের ভোটে পাস করার সুযোগ নেই: নাসের রহমান

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

চুরি ছাড়া জামায়াতের ভোটে পাস করার সুযোগ নেই: নাসের রহমান

মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী এম নাসের রহমান বলেছেন, ভোটের দিন সেন্টার পাহারা দিতে হবে। কারণ এই সেন্টারে জোচ্চরেরা যে চুরি করতে চায়, তাদের তো চুরি করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এখন জাতীয়ভাবে আমাদের দলের চেয়ারম্যান বলে দিয়েছেন এবং বিদেশীদেরও তিনি বলেছেন, চুরি ছাড়া জামায়াতে ইসলামি ভোটে পাস করার সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজনগর উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে গোবিনবাটিতে ধানের শীষের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসের রহমান বলেন, আমি কার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বুঝতে পারছি না। এত দিন ভেতরে ভেতরে ছিল, আমার বোধহয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা দাঁড়িপাল্লার সঙ্গে। আজকে (শনিবার) দাঁড়িপাল্লার মালিকই বলে গেছেন দাঁড়িপাল্লা নেই। তাহলে দাঁড়িপাল্লা কার প্রার্থী? এটা তো রাজনৈতিক ইতিহাসে ব্যতিক্রমী ব্যাপার। তার জোটে মানে না। তার দল তাকে মানছে না। তাকে স্টেজে উঠতে দেয়নি। তাহলে কার হয়ে নির্বাচন করছেন? যেই লোক উপজেলা নির্বাচন করে তিন নাম্বার হয়েছে, তাও আবার বিএনপির ভোট কিছুটা পেয়ে। হঠাৎ করে কোনো কথা নেই, বার্তা নেই এমপি ইলেকশন করার লাগি। এটা হয়নি? একটা মিনিমাম সমতুল্য বিষয় তো থাকতে হয়। কোনো যোগ্যতা আছে তার?

তিনি আরো বলেন, আমরা হয়তো কোনো অদৃশ্য প্রার্থী সাথে লড়ছি। থাকুক অদৃশ্যই থাক। এখন আমার ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা নেতৃবৃন্দ বলছি, ভাই নির্বাচনি বাহ্যিক প্রচারণার আর দুই দিন আছে। আর ঘরও বসে পাবে আরো দুই দিন। ১১ তারিখ তো সব প্রস্তুতির ব্যাপার। এদিন কোনো ক্যানভাস হবে না।

নাসের রহমান অভিযোগ করেন, ধানের শীষের এতসব ব্যানার, বিলবোর্ড অথচ মানুষ পায় না। আজ বুঝতে পারছি আমাদের ব্যানার আর ফেস্টুন খুলে খুলে এই যে অদৃশ্য গুপ্ত দল তার মানুষ দিয়ে নামিয়ে নিয়ে গেছে। এটা আজকে বলতে পারি। ব্যানার আর ফেস্টুন নামিয়ে কি আমার ভোট নেয়া যাবে? এটা শিশুর মতো কাজ করছে। আমাদের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, সেন্টার কমিটি আছে, যেসব সেন্টারে কাস্টিং ১০ পারসেন্ট ভোট অন্য মার্কায় যায়, তাহলে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে না, শুধু ইউনিয়ন কমিটিও বাতিল করা হতে পারে। যদি কোনো গ্যাপ থেকে থাকে তাহলে দ্রুত শেষ করবেন। ইনশাআল্লাহ ধান ছড়ার ভোটের কোনো অভাব হবে না। এখানে অন্য কোনো মার্কা তেমন কোন ভোট পাবে না। আমার দলের নেতাকর্মীদের বলবো, আপনার এতদিন অনেক কষ্ট করেছেন, এখন ফসল উঠাতে হবে তো। ফসল যদি ভোটের দিন ঠিকমতো উঠাতে না পারেন, এ দোষ কার?

চুরি ঠেকাতে তিনি নেতাকর্মীদের পরামর্শ দেন, নির্বাচনের দিন পারলে রোজা রাখেন না পারলে আপেল বা কলা খাবেন দুপুরে। আল্লাহর ওয়াস্তে সেন্টার ফেলে রেখে বাড়িতে ভাত খেতে যাবেন না। যেকোনো সময় সেন্টারে তিন-চারশ মানুষ থাকা উচিত। আর ভিতরে পোলিং এজেন্ট থাকবে। তারা ভেতরে সব দেখবে। নির্বাচনের শেষে ভোট গণনা করে রেজাল্ট সিট নিয়ে সেন্টার থেকে যাবেন।

উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী মাস্টারের পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল মুকিত, বকসী মিসবাউর রহমান, মো. হেলু মিয়া, রাজনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুন্দর বক্স, জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল, সাধারণ সম্পাদক এম এ মোহিত, রাজনগর উপজেলা যুবদলের সভাপতি জোসেফ আহমেদ প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন