শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাংলার উর্বর ভূমি কৃষিনির্ভর সমৃদ্ধ অর্থনীতি ও মানুষ-প্রকৃতির গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। তবে অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে এই ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ে এবং প্রায় দুই শতাব্দী অর্থনৈতিক স্থবিরতা বিরাজ করে। ১৯৪৭ সালের বিভাজনের পর পুনরুদ্ধারের সূচনা হলেও প্রকৃত অগ্রগতি ঘটে স্বাধীনতার পর। ১৯৭১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে দেশটি নতুন এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে, যেখানে প্রযুক্তিগত বিপ্লব ও পরিবেশগত পরিবর্তন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে টেকসই সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ উন্নয়নের দিকে কৌশলগতভাবে রূপান্তর করা এখন অত্যন্ত জরুরি।
অতীত ও বর্তমান অর্থনীতি
১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সময়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল প্রায় ১০০ ডলার, যেখানে ভারত (১২১ ডলার), থাইল্যান্ড (২১৩ ডলার), মালয়েশিয়া (৪০৭ ডলার) এবং সিঙ্গাপুর (১,১০০ ডলারের ) এগিয়ে ছিল। তবে ধারাবাহিক উন্নয়ন নীতির ফলে বাংলাদেশ এ ব্যবধান কমাতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতে, ২০২৫–২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় প্রায় ৩,০০০ ডলারে পৌঁছাবে, যেখানে মালয়েশিয়ায় ১৫,০০০ এবং সিঙ্গাপুরে ৯৬,০০০ ডলার হতে পারে।
অতীতে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার প্রধান সম্পদ ছিল অদক্ষ শ্রমশক্তি, কিন্তু তারা অত্যন্ত সফলভাবে সেই অদক্ষ জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মানদণ্ডে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ তার নিজস্ব অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির রূপান্তরমূলক মডেলগুলোকে আদর্শ মানদণ্ড বা ‘বেঞ্চমার্ক মডেল’ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, উচ্চ-মূল্য সংযোজন রপ্তানি এবং দক্ষ মানবপুঁজি গঠন, যা ২০৩৫ সালের মধ্যে ১.০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে সহায়ক হবে।
আগামীর অর্থনীতির সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা
বাংলাদেশ এখন ১.0 ট্রিলিয়ন ডলারের একটি স্বনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য সামনে রেখেছে, যা বাস্তবায়নযোগ্য। দেশের বৃহৎ তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, উর্বর কৃষিভিত্তি এবং দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল অবকাঠামোর সমন্বয়ে ইতোমধ্যে শক্তিশালী ম্যাক্রো ও মাইক্রো অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ভোক্তা বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে আরও ত্বরান্বিত করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন দেশসমূহ ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়নে অংশীদার হতে আগ্রহী। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হওয়ার সক্ষমতা রাখে।
অগ্রগতির প্রতিবন্ধকতা
বর্তমানে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তা সংকটের পেছনে কেবল অর্থনৈতিক বা শিল্পখাতের কাঠামোগত দুর্বলতা নয়, বরং এর গভীর শিকড় প্রোথিত রয়েছে আমাদের প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থায়। এই ব্যবস্থায় যোগ্যতা-ভিত্তিক জ্ঞান, নৈতিক মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং মানবাধিকার চেতনা গড়ে তোলার পরিবর্তে মূলত সনদ অর্জনের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা কাঠামোটি প্রযুক্তি, শিল্প, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, আইন ও গবেষণার বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সমন্বিত নয়। এতে তাত্ত্বিক জ্ঞানের আধিক্য থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় যুগোপযোগী কারিকুলাম, প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। ফলে সম্ভাবনাময় মানবসম্পদ দক্ষ, উৎপাদনশীল ও প্রযুক্তি-সক্ষম মানব পুঁজিতে রূপান্তরিত হতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি বড় অন্তরায়।
শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত ত্রুটি
শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা দেশের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিয়ে অর্থনীতিকে নিম্ন-মূল্য সংযোজনকারী খাতের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে, একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতা, পুঁজি পাচার, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস, সুশাসনের অবনতি, দুর্নীতি ও সম্পদের অপচয় বাড়িয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে ।
ডব্লিউআইপিওর গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স অনুযায়ী, ১৩৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম ও ‘হিউম্যান ক্যাপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ’ খাতে অবস্থান ১৩৩তম, যা মানবসম্পদের মান ও গবেষণা সক্ষমতার গুরুতর সীমাবদ্ধতার প্রতিফলন। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় বিজ্ঞান ও প্রকৌশল গ্র্যাজুয়েটের হারে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৫তম, যা জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে অগ্রগতির বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান
বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে শিক্ষা খাতের দুর্বলতা একটি বড় বাধা; তাই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শিক্ষা, অর্থনীতি, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিচারব্যবস্থাকে সমন্বিত করে একটি কার্যকর কাঠামো প্রণয়ন জরুরি। এ উদ্দেশ্যে শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী, অর্থনীতিবিদ, প্রযুক্তিবিদ, আইনজ্ঞ ও প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় শিক্ষা সংস্কার টাস্কফোর্স গঠন করা প্রয়োজন। ২০২৬-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণার মাধ্যমে স্থানীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, অদক্ষ জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে উৎপাদন খাতে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। পাশাপাশি, ডিগ্রি-নির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে বাস্তবমুখী, প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক কারিকুলাম প্রবর্তন করতে হবে, যা তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতার সমন্বয় ঘটাবে; এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো দেশের অভিজ্ঞতা অনুসরণযোগ্য।
প্রযুক্তিনির্ভর সম্পদ ব্যবস্থাপনা
সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং একটি সবুজ ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রযুক্তির কৌশলগত ব্যবহার আজকের বিশ্বের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তবুও এই ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশ এখনো তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে পানি, জ্বালানি, চক্রাকার অর্থনীতি এবং আধুনিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে দেশের অবস্থান আশানুরূপ নয়।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের Energy Transition Index ২০২৬ অনুযায়ী, বিশ্বের ১২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৯তম। এছাড়া পানি সম্পদ নিরাপত্তা ও দক্ষতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩২তম এবং বর্জ্য পুনরুদ্ধার, পুনর্ব্যবহার ও চক্রাকার অর্থনীতির সূচকে ১৬৪তম। এই অবস্থান দেশের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ঘাটতিকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
এই প্রেক্ষাপটে ডেটা-ভিত্তিক ডিজিটাল সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা সক্ষমতা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধি করা গেলে তা প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। পাশাপাশি, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের সীমিত প্রাকৃতিক ও শিল্প সম্পদের সর্বোচ্চ টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত হবে। মূলত এই সমন্বিত প্রযুক্তিগত রূপান্তরের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ বৈশ্বিক পরিসরে একটি উচ্চ-প্রতিযোগিতামূলক, পরিবেশবান্ধব ও স্থিতিশীল অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।
আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার
বাংলাদেশের টেকসই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন অনেকাংশেই নির্ভর করে আর্থিক খাতের দক্ষতা ও কার্যকারিতার ওপর। আর্থিক খাতের এই দক্ষতা আবার ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত সংস্কারের সঙ্গে। তবে বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত ভঙ্গুর। প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান সন্তোষজনক নয়; বিশ্বের প্রায় ১৪০টি দেশের মধ্যে এটি ৭৫তম থেকে ১১৩তম অবস্থানের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা কাঠামোগত দুর্বলতার সুস্পষ্ট প্রতিফলন। এই দুর্বলতার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট প্রোফাইল ঝুঁকির মুখে পড়েছে, বৈশ্বিক রেটিং সংস্থা মুডিস ও ফিচ ইতোমধ্যে ব্যাংকিং খাতকে অ-বিনিয়োগযোগ্য (B2/B3) স্তরে নামিয়ে এনেছে। এই প্রেক্ষাপটে সংকট উত্তরণ এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী আইনি কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, এবং প্রযুক্তিনির্ভর সার্বক্ষণিক তদারকি ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে একটি স্থিতিশীল, জবাবদিহিমূলক এবং বিনিয়োগবান্ধব খাতে রূপান্তর করা প্রয়োজন।
প্রযুক্তি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থাপনা
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশগত টেকসইতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি খাত। বর্তমানে দেশের প্রায় ৯৭% বিদ্যুৎ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, যার বেশিরভাগই উচ্চমূল্যে আমদানিনির্ভর। এতে প্রতিবছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়ে অর্থনীতি ও পরিবেশে চাপ সৃষ্টি করছে। অথচ দেশে ৬০,০০০ মেগাওয়াটেরও বেশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা বিদ্যমান। সুষ্ঠু গবেষণা, দেশীয় উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সৌর, বায়ু ও বর্জ্যভিত্তিক জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণ বাংলাদেশের জন্য একটি টেকসই ও নিম্ন-কার্বন ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে। এই কৌশলগত প্রযুক্তি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশকে একটি নিম্ন-কার্বন, সামষ্টিক অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ ভবিষ্যতের দিকে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
প্রবাসী অর্থনীতি
গ্লোবাল ডাটা ও আইএলও-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, একজন বাংলাদেশি প্রবাসীর বার্ষিক গড় আয় প্রায় ৫,৪০০ মার্কিন ডলার, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে প্রায় ৮,৫০০ ডলার, থাইল্যান্ডে ৯,০০০ ডলার এবং ফিলিপাইনের দক্ষ কর্মীরা প্রায় ১১,০০০ ডলার আয় করেন। অন্যদিকে, বিদেশে যেতে বাংলাদেশিদের গড়ে প্রায় ৪,০০০ ডলার ব্যয় হয়, যেখানে ফিলিপাইন কর্মীদের ব্যয় মাত্র ৮০০ ডলার এবং তারা প্রথম মাস থেকেই ৭০০ ডলারের বেশি আয় করতে সক্ষম।
এই বৈষম্য দূর করতে বিদেশগামী কর্মীদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়ন অপরিহার্য। সবুজ অর্থনীতি-সম্মত কারিগরি শিক্ষা, অটোমেশন, ডাটা ব্যবস্থাপনা ও উচ্চ-মূল্য সংযোজিত খাতে দক্ষতা অর্জন প্রবাসীদের আয় বাড়াতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষা দক্ষতা ও স্বীকৃত সনদ বাধ্যতামূলক করা জরুরি। সমন্বিত নীতির মাধ্যমে ব্যয় কমানো ও আয় বৃদ্ধি নিশ্চিত করে একটি টেকসই ও শক্তিশালী প্রবাসী অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।
কৌশলগত সুপারিশ
এখন দেশের লক্ষ্য ১.০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত হওয়া। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সততা, অর্থনৈতিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, পরিবেশ-সচেতনতা ও উচ্চ নৈতিকতার সমন্বয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা অপরিহার্য। কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কেবল এই অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনই করবে না, বরং টেকসই ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
লেখক পরিচিতি: সাসটেইনেবল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর গবেষক, সবুজ জ্বালানি ও গ্রিন-টেকনোলজি বিশেষজ্ঞ এবং চার্টার্ড ইঞ্জিনিয়ার
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


