বরগুনার আমতলীতে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে । ছাড়িয়ে গেছে লক্ষমাত্রা। দিক্ষণাঞ্চলের যে কয়টি উপজেলায় ভালো তরমুজ চাষ হয়ে থাকে তার মধ্যে অন্যতম আমতলী উপজেলা ।
তরমুজের মূল্য তুলনামূলক কম থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে অনেক তরমুজ চাষিদের । আগাম যারা বাজারে তরমুজ আনতে পেরেছেন তারাই কিছুটা লাভের মুখ দেখেছেন ।
আমতলী উপজেলার চাওরা ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের তরমুজ চাষি মামুন মোল্লা আমার দেশকে জানান, তিনি ১০ কানি জমি পাঁচ লক্ষ টাকায় লিজ নিয়ে প্রায় ৫০ হাজার তরমুজের চারা রোপণ করেছিলেন ।
ফলন খুব ভালো হয়েছে কিন্তু তিনি কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা । তিনি আরো জানান, গত বছর বিপুলসংখ্যক পাইকার আসলেও এ বছর তেমন পাইকারের দেখা মিলছে না ।
মূল্য যা বলছে, তাতে আমাদের অনেক টাকা লোকসান পড়তে হবে । সরিজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তরমুজ চাষিরা যে পরিমাণ লারেভর আসা করেছিল সে আসায় গুড়েবালি । আমতলী উপজেলায় তরমুজ বিক্রি হয় পিস মূলে । ৫ থেকে ৭ কেজি ওজনের এক একটি তরমুজ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১২০টাকা থেকে ১৫০ টাকায় ।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল আমার দেশকে বলেন, চলতি বছর আমতলী উপজেলায় তরমুজ চাষের আবাদের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েেছিল ৪ হাজার ২৪৯ হেক্টর। তা ৪ হাজার ৩০৯ হেক্টরেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে । তিনি আরো জানান, চলতি বছর যে পরিমাণ তরমুজ চাষ হয়েছে, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে শুধু আমতলী উপজেলায় ২৫০ কোটি টাকা আয় করার সম্ভাবনা ছিল ।
তরমুজ চাষীরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় আয়ের পরিমাণ অনেক কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে ।
একটু পর পর খড়কুটো ঘেরা টং ঘর দেখা যাচ্ছে তরমুজ খেতে। এ ধরনের টং ঘরেই উপজেলার কয়েক শত কৃষকের এখন অস্থায়ী আবাস। সারা রাত তারা সেই ঘরেই কাটান । সকাল-বিকাল-দুপুর-রাতেও তাদের মাঠে কাজ করতে দেখা যায় ।
আমতলীর আবাদি জমি তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় শুষ্ক মেসৗূমে কৃষকের তন্ময় দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে তরমুজ উৎপাদনে দিকে ।
এ এলাকার চাষিরা তরমুজ চাষে দক্ষ ও অভিজ্ঞ হওয়ায় তারা জমি লিজ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ করে থাকেন। যা এখানকার কৃষিতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। গত কয়েক বছর আমতলী উপজেলায় তরমুজের বাম্পার ফলন এবং বাজার দর ভাল হওয়ায় এখানকার কৃষকেরা তরমুজ চাষে ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়ছেন। দেশের বিভিন্ন বাজারে বিপুল পরিমাণ চাহিদা থাকায় এ উপজেলায় উৎপাদিত মানবদেহের উপকারী ফলটি এখানকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছেন তরমুজ উৎপাদনে।
হলদিয়া ইউনিয়নের চিলা গ্রামের তরমুজ চাষি মো. সিদ্দিকুর রহমান ও আলম জানান, অনেক চাষিই বেশি জমিতে উন্নতজাতের বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। তেমন পাইকার আসছেন না, যা দাম বলছেন তাতে জমির লিজের খরচ ও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে সামান্য লাভ হতে পারে ।
গুলিশাখালী ইউনিয়নের তরমুজ চাষি শাহিন সিকদার ও খেতের শ্রমিক সবুজ খান বলেন, সব সময় তাদের তরমুজ খেতে ব্যস্ত থাকতে হয়। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে তরমুজ বিক্রি পর্যন্ত তাদের শ্রম দিতে হয়।
বিনিময়ে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা তাদের বেতন দেওয়া হয়। থাকা-খাওয়া সব কিছু মালিকের। যে পরিমান লাভের আশা করেছিলাম সে পরিমান লাভ না হওয়ায় আমরা তরমুজ চাষে ইৎশাহ হারিয়ে ফেলছি ।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চেধৗুরী আমার দেশকে বলেন," আমি যতদুর জানতে পেরেছি,আমতলী উপজেলা কোটি কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন হয়ে থাকে। এখানকার মাটি,আবহাওয়া ও নদ-নদীর মিঠা পানির উৎস তরমুজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী।তিনি আরো বলেন, আমতলীর দক্ষ ও অভিজ্ঞ তরমুজ চাষীরা চরাঞ্চলের জমি লিজ নিয়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তরমুজ চাষ করে থাকেন যা এখানকার কৃষিতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তরমুজ চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমি দেশের বিভিন্ন তরমুজ পাইকারদের আমতলী এসে তরমুজ ক্রয়ের জন্য আহবান জানাচ্ছি ।