হোম > সারা দেশ > বরিশাল

প্রতি আসনেই হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির, আছে কোন্দলও

ভোলার চার আসন

ইউনুছ শরীফ, ভোলা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোলার চারটি আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি। অন্যদিকে বিজয়ের লক্ষ্যে মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। বসে নেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরাও। জেলার উন্নয়ন, অগ্রগতি, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ধরনের আশ্বাস আর বিশ্বাসের প্রত্যয়ে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

ভোলায় সাত উপজেলার পাঁচটি পৌরসভা ও ৭২ ইউনিয়নের ১৬ লাখ ২৯ হাজার ৩৫৭ জন ভোটার নিয়ে চারটি সংসদীয় আসন। প্রায় সমসংখ্যক নারী-পুরুষ ভোটারের এ জেলার প্রতিটি আসনেই বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এবার নির্বাচন করবেন। তবে দলটির পুরোনো মিত্র বিজেপি এবং তাদের নিজস্ব প্রার্থিতা বাছাইয়ে কোনো কোনো আসনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিটি আসনে একক প্রভাবশালী প্রার্থী থাকায় বেশ ফুরফুরে রয়েছে জামায়াত।

ভোলা-১ (সদর)

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ভোলা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সাবেক মন্ত্রী মরহুম মোশাররফ হোসেন শাজাহানের ভাই। সেই সুবাদে এলাকায় বেশ সুনাম আছে তার। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন শাজাহানের মৃত্যুর পর জোটগত কারণে জাতীয় সংসদে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব থাকেনি।

২০০৮ সালে মনোনয়নের জন্য বিএনপি নেতারা আন্দোলন-সংগ্রাম করলেও জোটের কারণে মনোনয়ন পেয়ে এমপি হন বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। এবারো জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন হলে তিনি এ আসন থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হবেন বলে তার প্রত্যাশা।

অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা নায়েবে আমির ও মৌলভীরহাট সিনিয়র ফাজিল মডেল মাদরাসার অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম। অনেক আগে থেকেই তিনি নির্বাচনি মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন। বিএনপি যখন মনোনয়নের প্রত্যাশায় ব্যস্ত, জামায়াত তখন জনগণের কাছে। জুলাই আন্দোলনে ভোলার শহীদ ও পঙ্গুদের অনুদান, তাদের খোঁজখবর নেওয়া, দুস্থ ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন তিনি।

এদিকে, বসে নেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ওবায়দুর রহমান। এ আসনের কিছু ইউনিয়নে তাদের ভোটব্যাংক রয়েছে—এমন দাবিও তাদের।

ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান)

আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ভাই, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম। ব্যাপক প্রচারের মধ্যে আসনটি পুনরুদ্ধারে শতভাগ বিশ্বাস নিয়ে কাজ করছেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাবেক জেলা আমির ও ভোলা দারুল হাদিস কামিল মাদরাসার সাবেক সহকারী অধ্যাপক ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় গবেষণা ইউনিটের সদস্য মুফতি মাওলানা ফজলুল করিম। আলেম হিসেবে পুরো জেলায় তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ভোটারদের আশা, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এ আসনে জামায়াতের বিজয় নিশ্চিত।

ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন)

১৯৮৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টি, স্বতন্ত্র ও বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ২০০৮ সাল থেকে আসনটি নিয়ন্ত্রণে নেয় আওয়ামী লীগ। তবে এবার আসনটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। আওয়ামী আমলে রাজনৈতিক তেমন কোনো কর্মকাণ্ড দেখা না গেলেও চব্বিশের ৫ আগস্টের পর এলাকায় এসে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন তিনি।

এ আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম। প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ছাত্রশিবিরের সাবেক এই কেন্দ্রীয় নেতা। তাকে সমর্থনকারী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তরুণ এই নেতা ইতোমধ্যে এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছেন। ফুলকপি মার্কা নিয়ে এই প্রার্থী ভোটারদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনই তার প্রত্যাশা।

ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা)

পর্যটন এলাকা চর কুকরি-মুকরি, বিচ্ছিন্ন উপজেলা মনপুরা, সাগরবেষ্টিত ইউনিয়ন ঢালচর, পাতিলা মিলে এ সংসদীয় আসন। চার লাখ ৭১ হাজার ৯৯৩ ভোটারের বসবাস এখানে। এবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন। মনোনয়ন পাওয়ার পর অভ্যন্তরীণ বিভেদ মিটিয়ে বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন । তবে কোন্দল যেন তার পিছু ছাড়ছে না। তবুও বসে নেই তরুণ এই নেতা। গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।

এদিকে, ভালো অবস্থানে আছেন জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী দলের সাবেক জেলা আমির অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল। বিএনপি যখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দলীয় বিভেদে ব্যস্ত, তখন জামায়াতের এই প্রার্থী নির্বাচনি মাঠ গোছাতে ব্যস্ত। সামাজিক কার্যক্রমে ব্যাপক সম্পৃক্ততার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ব্যাপক পরিচিতি গড়ে উঠেছে তার। সরকারি বরাদ্দ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোসহ দলীয় সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করছে জামায়াত।

এ বিষয়ে ভোলা সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও নির্বাচন বিশ্লেষক এবিএম মজিবুর রহমান বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অবশ্যই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম বিবেচনা করবেন ভোটাররা। এটা ভোটের জন্য বড় ফ্যাক্টর। পাশাপাশি প্রার্থীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিগত বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দেবেন। তবে ভোট সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কেন্দ্রগুলোয়ও সেনাসদস্যের উপস্থিতি কামনা করেন তিনি।

সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, চব্বিশ-পরবর্তী সময়ে মানুষ সহিংসতা পছন্দ করে না। যে দল বা ব্যক্তি সহিংসতায় লিপ্ত হবে, তার ভোটের ওপর ভোটারদের বিরূপ মনোভাব থাকবে।

ভোলা-২ আসনে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

চালককে হত্যার পর অটো ছিনতাই, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

ব্যাংকে ফয়জুল করিমের ১ হাজার টাকা থাকলেও স্ত্রীর স্বর্ণ ১৮৭ ভরি

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ইন্দুরকানীজুড়ে শোক, বন্ধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

বরগুনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

ফ্যাসিবাদ নির্মূল করতে পারলেই খালেদা জিয়ার আত্মা শান্তি পাবে

পাথরঘাটায় ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ

পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

এক সাথে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন সাঈদীর দুই ছেলে

বিএনপির মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণ, পার্থের অফিস ভাঙচুর-গুলি