নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা উপকরণ
দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শৈল্য, মেডিসিন, গাইনি, দন্তসহ গুরুত্ব পূর্ণ ৬টি চিকিৎসক, চিকিৎসা সহকারী, মেডিকেল টেকনেশিয়ান ল্যাব, ডেন্টাল ও রেডিওলজিস্ট পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। প্রয়োজনীয় জনবল ও উপকরণ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।
ভর্তি রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় গজ, ব্যান্ডেজ, ক্যানোলা, মাইক্রোপোর, সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেটের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ হাসপাতাল থেকে সরবরাহ না পাওয়ায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয় ও দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
পটুয়াখালী জেলা সদর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার একমাত্র প্রতিষ্ঠান দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত ২৭/১/২০২০ ইং তারিখে হাসপাতালে একটি নতুন ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন আসলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে তা তালাবদ্ধ রয়েছে। টেকনোলজিস্টের অভাবে হাসপাতালের ল্যাবরেটরি সেবা মারাত্মক সীমিত হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ নির্ণয় ও পরীক্ষা হাসপাতালে করা সম্ভব হচ্ছেন না। ফলে দালালদের খপ্পরে পড়ে বেশি খরচে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে।
মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি রুকাইয়ার স্বজন আমার দেশকে বলেন, ‘শুধু স্যালাইন ব্যতীত হাসপাতাল থেকে আর কিছু পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।’
জলিসা গ্রামের নাসির উদ্দিন বলেন, গজ, ব্যান্ডেজ, ক্যানোলা, মাইক্রোপোর, সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেটের মতো অতীব প্রয়োজনীয় জিনিষ রোগীদের বাইরে থেকে চড়া মূল্যে কিনতে হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসকসহ কর্মকর্তাদের মালিকানাধীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্স-রেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে রোগীর স্বজনরা।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান বলেন, চিকিৎসক সংকট নেই। তবে অন্য পদগুলোতে জনবল সংকট কাটাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বার বার অবহিত করে আসছি। উপকরণ সংকটের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতার কারণে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে বিলম্ব হচ্ছে। তবে আমরা নিজস্ব উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পারব।
এমএইচ