ভোলার দৌলতখান উপজেলায় বিদ্যুতের ব্যাপক লোডশেডিং ও নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চলতি এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের। লোডশেডিংয়ের ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রেও ঠিকমতো বিদ্যুৎ থাকে না । সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
মহিবুর রহমান নামে একজন অভিভাবক জানান, সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ না থাকায় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে বসতে পারছে না। বাজারে মোমবাতিও খুঁজে পাওয়া যায় না। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আকাশে মেঘের ছায়ার আভার আগেই বিদ্যুৎ হারিয়ে যাওয়া এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অঘোষিত ও মাত্রাতিরিক্ত ঘনঘন লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎবিভ্রাটের ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ।
বিদ্যুতের অভাবে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে।
বাসা বাড়ির ফ্রিজ টিভি কম্পিউটার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
রোববার দুপুর ১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত টানা ১৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল বন্ধ।
ফটোস্ট্যাট অ্যান্ড কম্পিউটার ব্যবসায়ী মোর্শেদ মিয়া জানান, লোডশেডিংয়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ফিরে আসবে আশায় অপেক্ষায় থাকতে হয়। বিদ্যুতের অভাবে এখন ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। অথচ মাস শেষে নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী শামিম ফরাজি বলেন, লোডশেডিংয়ের এরুপ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে। বিদ্যুতের অভাবে বরফকলগুলোতে অচল অবস্থা দেখা দিয়েছে। ফলে মৎস্য ব্যবসায়ীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় অসুবিধার এমন অভিযোগের পাহাড় জানালেন আরও অনেকে। এদিকে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ইন্টারনেট ও মোবাইলের নেটওয়ার্ক সচল থাকে না।
এ ব্যাপারে দৌলতখান বিদ্যুৎ এরিয়া অফিসে একাধিকবার ফোন করে কাউকে পাওয়া যায়নি। ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (বাংলাবাজার) সদর দপ্তরের জিএম রাজ্জাকুর রহমান আমার দেশকে বলেন, ঝড় বৃষ্টি ও জাতীয় গ্রিড লাইনে সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ থাকে না।