পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার তেতুলিয়া নদীর মোহনায় তরমুজবোঝাই একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে পানিতে ভেসে গেছে প্রায় ১০ হাজার পিস তরমুজ। এ ঘটনায় তরমুজ চাষিদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) সকাল প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চর মার্গারেট গ্রামের আবু মিয়ার স্লুইসঘাট এলাকা থেকে পার্শ্ববর্তী গলাচিপা উপজেলার মশুরীঘাটে তরমুজ নিয়ে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর মার্গারেট গ্রামের তরমুজ চাষি ওহাব খান ও বোয়ালিয়া এলাকার ইলিয়াস গাজী ভাড়ায় চালিত মিলন খাঁনের একটি ট্রলারে করে প্রায় ১০ হাজার তরমুজ বিক্রির উদ্দেশ্যে গলাচিপার মশুরীঘাটে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে তেতুলিয়া নদীর মোহনায় পৌঁছালে হঠাৎ বৈরী আবহাওয়া ও তীব্র ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। এতে ট্রলারে থাকা তরমুজগুলো নদীতে পড়ে গিয়ে স্রোতের সঙ্গে ভেসে যায়।
এ সময় আশপাশে থাকা কয়েকটি জেলে ট্রলারের জেলেরা ছুটে এসে ভেসে যাওয়া তরমুজ উদ্ধারের চেষ্টা চালান। তবে অনেক তরমুজ নদীর স্রোতে ভেসে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে শত শত তরমুজ নদীর স্রোতে ভেসে যাচ্ছে এবং জেলেরা সাঁতার কেটে ও ছোট ট্রলারে করে সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় তরমুজ চাষিরা জানান, ধারদেনা করে তরমুজ চাষ করেছেন তারা। ট্রলারডুবির ঘটনায় তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তারা বলেন, রাঙ্গাবালীর যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় প্রায়ই বৈরী আবহাওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে নদী ও সাগরপথে পণ্য পরিবহন করতে হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন এবং নিরাপদ যাতায়াতের জন্য এ রুটে ফেরি চালুর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।