মেঘনা নদীর মাছঘাট থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ নয়মীয়ার খালে দীর্ঘদিন ধরে জোয়ার-ভাটা না থাকায় সেচব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এ খালের পানি দিয়েই কয়েক যুগ ধরে দুই ইউনিয়নের প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হতো। কিন্তু চাষের জন্য সেচের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক কৃষক খালি ফেলে রাখছেন উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম ফসলি জমি।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষীয়া ইউনিয়নের কৃষক নূর ইসলাম ফরাজী। কয়েক বছর আগেও পৌষের শেষ ও মাঘ মাসের শুরুতে তিনি বোরো ধান রোপণ ও চাষ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। কিশোর বয়স থেকে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা নূর ইসলাম এখন সংসার সামলাতে বিকল্প পেশা খুঁজছেন।
নূর ইসলাম ফরাজী বলেন, কয়েক বছর আগেও যে খালের পানি দিয়ে ধান চাষ করতাম, সে খাল এখন ভরাট হয়ে মরা নালায় পরিণত হয়েছে। সেচের জন্য এ খালে আর পানি পাওয়া যায় না। বিকল্প না থাকায় জমি ফেলে রাখতে হচ্ছে।
শুধু নূর ইসলাম ফরাজীই নন, ভরাট হয়ে খালের নাব্য হারিয়ে যাওয়ার পর খনন না হওয়ায় বোরো ধানের চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এ উপজেলার দুই ইউনিয়নের প্রায় ৬০০ কৃষক। কেউ কেউ তাদের চাষের পুরো জমি খালি ফেলে রাখছেন, কেউ কেউ সেচের প্রয়োজন হয় না এমন বিকল্প সবজি ও শস্য চাষ করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে সর্বশেষ ২০০৫ সালে এ এলাকায় খাল খনন করা হয়। এরপর ২০ বছরেও খালটি খনন করা হয়নি। অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষায় প্লাবিত হয়ে নদীর পলি জমে খালটির নাব্য হারিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা বলেন, এক দশক আগেও যেসব জমিতে বোরো ধানের চাষ হতো, সেসব জমিতে এখন চাষ হচ্ছে গম, ভুট্টা, খেসারি ডাল ও আলু। এতে ধান ও চাল উৎপাদনে সংকট দেখা দিয়েছে। খাদ্য সংকটে হ্রাস পেয়েছে গবাদিপশুর লালনপালন ও দুধ উৎপাদন। দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ায় পুষ্টিহীনতা নিয়ে বড় হচ্ছে দুই ইউনিয়নের কয়েক গ্রামের শিশু-কিশোররা।
খালটি দিয়ে পানি আসা-যাওয়ার মাধ্যমে মানুষের উপকার হওয়ার কথা থাকলেও এ খালটি দিয়ে বর্তমানে মানুষের অপকারই হচ্ছে বেশি। দীর্ঘদিন খনন না করার কারণে বর্ষাকালে এলাকায় কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের পরিচালক হাবিবুর রহমান আমার দেশকে বলেন, নতুন অর্থবছরের বাজেটে খননের জন্য খালটি তালিকাভুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মণ জানান, বিএডিসির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় চলতি অর্থবছরে কিছু করতে পারছি না। তবে কৃষকদের সুবিধার জন্য তাদের একটি দরখাস্ত নিয়ে সরকারি দপ্তর থেকে খালটি খননের চেষ্টা করার কথা জানান তিনি।