বরগুনার দুই আসন
আসন্ন সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পুনরুজ্জীবিত হয়েছে ভোটের রাজনীতি। নির্বাচনি এলাকায় পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। তারা ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ভোটারদের কাছে গিয়ে উন্নয়নের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। জুলাই বিপ্লবের পর ভোটের পরিবেশ ফিরে আসায় এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।
জেলার ছয়টি উপজেলা নিয়ে দুটি সংসদীয় আসন গঠিত। এখানে আগে রাজত্ব করেছে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ)। জুলাই বিপ্লবের পর ফ্যাসিবাদী দলটির প্রায় সব শীর্ষ নেতা পালিয়ে গেছেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির নেতারাও আত্মগোপনে আছেন। এ কারণে ভোটের মাঠে তাদের বিচরণ নেই বললেই চলে। এবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদসহ নতুন কয়েকটি দলও বেশ তৎপর।
বরগুনা-১ (সদর, আমতলী ও তালতলী)
আসনটিতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম মোল্লাকে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের বিরুদ্ধে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা বিদ্রোহ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও এখানে চিত্র ভিন্ন। একক নমিনি থাকায় দলটির প্রচার কার্যক্রমেও পড়েছে ইতিবাচক প্রভাব।
এখানে ভোটের দিক থেকে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে ইসলামী আন্দোলন। বিগত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। এবার দলটির প্রার্থী করা হয়েছে জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন ওয়ালীউল্লাহকে। তিনি আসনটিতে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে চরমোনাই দরবার শরিফ সমর্থিত বরগুনার পীর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে বিভিন্ন স্থানে ওয়াজ মাহফিল করে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামী প্রায় এক বছর আগে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করায় এ আসনে কিছুটা স্বস্তিতে আছে দলটি। এ আসনে দাঁড়িপাল্লার নমিনি করা হয়েছে জেলা আমির ও বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুনকে। তিনি এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ করছেন।
এ আসনে এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ অন্য দলের তেমন কোনো কার্যক্রম এখানে নেই। অনেক দল প্রার্থীও ঘোষণা করেনি।
বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী)
বিএনপি দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনিকে প্রার্থী করেছে। এর আগে তিনি বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
জামায়াত এখানে দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে শূরা সদস্য ডা. সুলতান আহমেদকে প্রার্থী করেছে। বেশ আগেই তার নাম ঘোষণা করায় তিনি ইতোমধ্যে মাঠ গুছিয়ে নিয়েছেন।
আসনটিতে ইসলামী আন্দোলনের কিছু রিজার্ভ ভোট আছে। দলটির জেলা সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমানকে এ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি বেশ জোরেশোরে প্রচার চালাচ্ছেন। তিনিও জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী।
আসনটিতে এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ অন্য দলগুলোর তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। কেউ কেউ প্রার্থীও ঘোষণা করেনি।
বেশ কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও এলাকার উন্নয়নের জন্য নিবেদিতপ্রাণ প্রার্থীকেই তারা বেছে নেবেন। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যার চিন্তা ও মননে অপরিসীম দেশপ্রেম রয়েছে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যার পরিষ্কার অবস্থান থাকবে, এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চান তারা।