হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

সীতাকুণ্ডে জলাবদ্ধতার প্রতিবাদে কারখানার গেটে অবরোধ

উপজেলা প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

ছবি: আমার দেশ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি, রান্নাঘরের চুলা নিভে যাওয়া, খাদ্যসামগ্রী ও গৃহস্থালির মালামাল নষ্ট হওয়া, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং শিশুদের লেখাপড়া ব্যাহত হওয়ায় শতাধিক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়েও কার্যকর উদ্যোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে রোববার সকালে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আবুল খায়ের স্টিল কারখানার প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতার কারণ অনুসন্ধানে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিও জানান তারা।

রোববার সকাল ৭টার দিকে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় শত শত নারী-পুরুষ কারখানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে কারখানায় পণ্যবাহী যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও সৃষ্টি হয় যানজট।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই ইউনিয়নের পাঁচ, ছয় ও সাত নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করে। তাদের দাবি, পাহাড়ি ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ বা সংকুচিত হয়ে যাওয়া এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রমের কারণে পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, শুষ্ক মৌসুমে কারখানার প্রয়োজনে ছড়ার পানি ব্যবহার করা হয় এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানি হলে বাঁধ কেটে ছেড়ে দেওয়ায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামে দ্রুত পানি ঢুকে পড়ে। এছাড়া ভারী শিল্পযানের চলাচলে সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক পরিবারের বসতঘরে এখনো পানি জমে রয়েছে। কোথাও বিছানার নিচ পর্যন্ত পানি, কোথাও রান্নাঘর অচল। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন পরিবারগুলো। দিনমজুর, শ্রমিক ও কৃষকদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষিজমির একাংশ। অন্যদিকে ভারী যানবাহনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বড় বড় গর্তে পানি জমে থাকায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পী আমার দেশকে বলেন, দুই বছর ধরে একই দুর্ভোগ। ড্রেন নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের আশ্বাস বহুবার দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। ভারী শিল্পযানের কারণে গ্রামের প্রধান সড়ক ভেঙে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে ডুবে যায়।

আরেক বাসিন্দা সোহেল আমার দেশকে বলেন, আমরা শিল্পায়নের বিরোধী নই। কিন্তু মানুষের জীবন-জীবিকা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সমস্যার সমাধানও করতে হবে। বছরের পর বছর আবেদন করেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি।’

এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর আবুল খায়ের গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে ১৫ দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে প্রাকৃতিক খাল ও পাহাড়ি ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, ড্রেন নির্মাণ, জলাধার পুনঃখনন, শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই দাবিতে উপজেলা প্রশাসন, ভূমি প্রশাসন, থানা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।

খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই আব্দুল আহাদের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে গ্রামবাসী শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

এসআই আব্দুল আহাদ আমার দেশকে বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ শোনা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, গ্রামবাসীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল খায়ের গ্রুপের কর্মকর্তা সৈয়দ তানভির আমার দেশকে বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

এদিকে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি ও ভূমি প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জলাবদ্ধতার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, পাহাড়ি ঢলের পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি সড়কের দ্রুত সংস্কার এবং দায়িত্ব নিরূপণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের কার্যকর ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি।

এমএইচ

নোয়াখালীতে আলমারি খুলতেই বিষাক্ত সাপের দংশন, প্রাণ গেল গৃহবধূর

ঈদগাঁওয়ে ফাঁস লাগানো যুবকের লাশ উদ্ধার

সীতাকুণ্ডে আবুল খায়ের স্টিল মিলের ‘কৃত্রিম জলাবদ্ধতা’

চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত অতিবৃষ্টিতে ফের নগরীতে জলাবদ্ধতা

রামুতে বন্যার পানিতে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু

বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে শত শত মানুষের ভিটামাটি

চকরিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে যুবক নিহত

সরকারের কেউ আসেনি, সরকার পারছে না: নাহিদ ইসলাম

আট বছর পর গতি পেল চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্প

সীতাকুণ্ডে পুলিশি অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, নারীর মৃত্যু