হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

সাতকানিয়ার বন্যা, ‘দোতলা বাড়িটি না থাকলে আমরা কেউ বাঁচতাম না’

এম কে মনির, চট্টগ্রাম

"দোতলা বাড়িটি না থাকলে আমরা সবাই ভেসে যেতাম। ওই একটি বাড়িতেই আমরা ৭টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছিলাম। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার মতো কোনো উপায়ও ছিল না। এখন আবার নতুন করে ঘরবাড়ি তৈরি করতে হবে। বন্যায় আমাদের সব ভেসে গেছে—ক্ষেতখামারও শেষ, গবাদিপশুও শেষ। সামনের দিনগুলিতে কি করে ভরণপোষণ যোগাড় করব জানি না। এমন ভয়াবহ বন্যা আমার দাদাও কখনো দেখেনি।"

সোমবার দুপুরে বন্যার ভয়াল স্মৃতির কথা মনে করে আবেগজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের তেমুহনী গ্রামের বাসিন্দা শ্রীকান্ত দাস। ছয় সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তিনি মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। এবারের বন্যা তার জীবনের সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, একশো জেলে পরিবারের বাস ওই গ্রামে। তারা সবাই নদীতে মাছ শিকার করেন। কিন্তু নদীর পানি এখন বিপৎসীমার উপরে বইছে। এতে মাছ শিকার দূরে থাক বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। গত বুধবার তাদের গ্রামে সাঙ্গু নদীর পানি ঢুকে প্লাবিত করে। এরপর থেকে হঠাৎ করেই তারা পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বুধবার রাত থেকে তারা ছয়জনসহ আরও ছয়টি পরিবার প্রতিবেশী ভরত দাসের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকে সেখানে এক বাড়ির চুলোয় সাত পরিবার রান্না করে খাওয়া দাওয়া সারছেন।

তিনি জানান, মাছ ধরার কাজে যেসব নৌকা তারা চালাতেন সেগুলোর মালিক একজন মাঝি। তাই কেউ জরুরী প্রয়োজনে কেউ বাড়ির বাইরে যেতে পারেননি। গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি সবই মরেছে বন্যায়। কারো বাড়ি ধ্বসে গেছে। কারো আংশিক টিকলেও বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সোমবার যখন পানি কমেছে তখন বাড়িতে গিয়ে আগের হাল দেখেননি তারা। কাদা মাটি আর বন্যার পানিতে ভিজে মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া গায়ের কাপড় দেখে অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।

ভরত দাসের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া আরেকজন আরতি দাস বলেন, যাদের দোতলা বাড়ি ছিল তারাই একটু রক্ষা পেয়েছেন। সাতকানিয়ার বন্যায় কারো বাড়িঘর ভেসে গেছে, কারো ভেঙে পড়ে গেছে। আবার কারো বাড়িতে ৬ দিন ধরে পানি। এলাকার রাস্তা-ঘাট সবই সাগরে রূপ নিয়েছে। কোনটি রাস্তা, কোনটি বিল বুঝা দায় হয়ে পড়েছে। নৌকায় এখন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।

বাজালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আল আমিন বলেন, চারদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই তাদের এলাকায়। ফোন চার্জ নেই। কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না। বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে অনেক জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটিও উপচে পড়েছে। বিস্তৃত ফসলের খেত ভেসে গেছে। হাজার হাজার টাকার বিনিয়োগ পানিতে ভাসছে। আগামী এক সপ্তাহ ত্রাণ নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোন উপায় নেই।

কেঁওচিয়া ইউনিয়নের আমেনা বেগম বলেন, গত ৯ দিন ধরে চুলোয় আগুন জ্বলে না। কেউ কোন ত্রাণ দেয়নি। সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তাদের এলাকায় আসলে ত্রাণ বিতরণ করেন। সেই ত্রাণ বিতরণের একটি স্লিপ তিনি পেয়েছেন। তাই আর দেরি না করে কোমর পানিতে নেমে হলেও ত্রাণ নিতে এসেছেন। এতো দু:খের মাঝেও ত্রাণ পেয়ে যেন মুখে হাসি ফুটেছে আমেনা বেগমের।

তবে অভিযোগ ওঠেছে, সাতকানিয়ায় ত্রাণ বিতরণ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা বলেন, কেউ কেউ ১০ থেকে ১৫টি স্লিপও নিয়েছেন। প্রকৃত দু:স্থদের না দিয়ে ত্রাণ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় কর্মী হিসেবে কাজ করলেও দুর্যোগে তাদের নামে ত্রাণের তালিকায় আসেনি।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকে লাথি দিলেন এমপি

বিএনপির মুখে এক, অন্তরে আরেক রূপ দেখতে পাচ্ছে জনগণ

কুতুবদিয়ায় সাগরে ট্রলারডুবিতে চারজনের লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ১

মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে, ডুবছে লোকালয়

প্রধানমন্ত্রীর ফোনের পর কুমিল্লার সেই এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তন

চকরিয়া-রামুতে আরো দুজনের মৃত্যু, কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণহানি ২৭

গোয়েন্দা সদস্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

কক্সবাজারে বন্যার পানি নামছে, বেরিয়ে আসছে ক্ষতচিহ্ন

কোমরপানি ভেঙে আশ্রয়কেন্দ্রে ৭০ বছরের বৃদ্ধার করুণ লড়াই

কক্সবাজারে বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষের পাশে বিজিবি