পরিবারে দুই ভাই ও তিন বোন। এর মধ্যে দুই বোন বিবাহিত। ভাইদের মধ্যে ছোট ছিলেন এমদাদুল হাসান রুবেল (২৭)। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করতে বোনের শ্বশুরবাড়িতে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিতে গিয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন রুবেল। বোনের বাড়িতেও যাওয়া হয়নি, আর ফেরাও হয়নি নিজের বাড়িতে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী ক্রসিং তালতলা এলাকায় লেগুনা ও ঈগল পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই রুবেলসহ তিন যাত্রী নিহত হন। তিনি পটিয়া উপজেলার আশিয়া ইউনিয়নের মল্লপাড়া এলাকার মৃত আবদুল মুমিনের ছেলে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও নিহতের আত্মীয় নাজিম উদ্দীন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে শান্তিরহাট থেকে লেগুনাযোগে কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক এলাকায় বোনের বাড়িতে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন রুবেল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা ঈগল পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস যাত্রীবাহী লেগুনাটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই রুবেল নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুই যাত্রী মারা যান।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত শেষে আশিয়া ইউনিয়নের মল্লপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে রুবেলকে দাফন করা হবে। রুবেল অত্যন্ত শান্ত ও কর্মঠ স্বভাবের ছিলেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। প্রথমে নিহতদের পরিচয় পাওয়া না গেলেও পরে রুবেলের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। আহতদের বেশিরভাগই চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক বলেন, রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী ক্রসিং তালতলা এলাকায় ঈগল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৩০ জন যাত্রী আহত হন।
তিনি আরও জানান, আহতদের চমেক হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকিদের ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। নিহতদের একজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকি দুজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
পটিয়া উপজেলার আশিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মঈনুল হক রাশেদ বলেন, রুবেল অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র ছেলে ছিল। বাবার মৃত্যুর পর গার্মেন্টসে চাকরি করে পরিবারের হাল ধরেছিল তিনি। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কোরবানির মাংস নিয়ে বোনের বাড়ি যাচ্ছিল। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে এক দুর্ঘটনায় আনন্দ পরিণত হলো শোকে।
তিনি জানান, রুবেলের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার তাকে দাফন করা হতে পারে।
এএস