দীর্ঘ ২১ বছর দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাবেন। তার আগমন ঘিরে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ বইছে। দলের চেয়ারম্যানকে কাছ থেকে দেখতে সবারই যেন এক অন্যরকম ব্যস্ততা।
বিএনপি নেতারা বলছেন, রোববার পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশে ১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটাতে পরিকল্পনা করেছে তারা। এই সমাবেশকে স্মরণীয় করে রাখতে গত এক সপ্তাহ ধরে টানা বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়ে বাস্তবায়নে কাজ করছেন তারা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য, নগর, উত্তর, দক্ষিণ জেলা, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার নেতারাও এই পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বিএনপির বিজয়ের ফসল ঘরে তুলতে তারেক রহমানের এই সফরকে ট্রাম্প কার্ড হিসেবে নিতে চায় বিএনপি নেতারা।
বিএনপি সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় তারেক রহমান ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবেন। এরপর সেখান থেকে তিনি নগরীর কাজির দেউড়িস্থ পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে ওঠবেন। সেখানে রাত্রীযাপন করে সকাল নয়টায় ছাত্রদের সাথে একটি সেমিনার করবেন তারেক রহমান। ওই সেমিনারে চবি, চুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন। এরপর সাড়ে এগারোটা থেকে পৌনে বারোটার মধ্যে পলোগ্রাউন্ডে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। এরপর সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।
দুপুর বারোটার মধ্যে চট্টগ্রামের সমাবেশ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চট্টগ্রামের সমাবেশ থেকে তিনি ফেনীর সমাবেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন। পথে পথে তাকে মহাসড়কের দুই পাশে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাবেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। এর আগে রোববার সকাল আটটা থেকেই চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা থেকে নেতাকর্মীরা আসবেন।
সূত্র আরো জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নগর, উত্তর, দক্ষিণ জেলা, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার নেতারাও এই পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছেন। ভেন্য নিয়ে সার্বিক সমন্বয় করছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তারেক রহমানের আগমন উপক্ষ্যে নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল সিএমপি কমিশনারের সাথে শনিবার বৈঠক করেছেন। সিএমপি সমাবেশে নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে তাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন।
নেতাকর্মীদের বাস, মাইক্রোবাস, ট্রাকসহ পরিবহন পার্কিংয়ের জন্য সিআরবি’র খালি জায়গা ও আশেপাশে সড়কের পাশে জায়গা রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে শনিবার পলোগ্রাউন্ড মাঠে দেখা যায়, তারেক রহমানের জন্য প্রস্তত ১০০ ফুট দৈঘ্যের মঞ্চ। বাঁশ, কাঠ ও স্টিল দিয়ে সাত ফুট উচ্চতায় ৬০ ফুট প্রস্থে এটি তৈরি করা হয়েছে। শুক্রবার মঞ্চের অবকাঠামো তৈরি করা হলেও শনিবার দুপুরের মধ্যে মঞ্চে লাল গালিছা বিছানো, বসার জন্য সোফা, ফ্যান, সাউন্ড সিস্টেম, ব্যানারসহ অন্যান্য সাজসজ্জার কাজ শেষ হয়। সেখানকার শ্রমিকরা বারবার কাজগুলো দেখে নিচ্ছেন কোথাও কোন ত্রুটি আছে কিনা। একইসাথে পলোগ্রাউন্ড ও নগরীর টাইগারপাস, কদমতলী, সিআরবি সাত রাস্তার মাথায় ২০০টি মাইক লাগানো হয়েছে, মঞ্চে বসানো হয়েছে ১০টি সাউন্ড সিস্টেম। মঞ্চ এলাকা রেড জোন হিসেবে থাকবে। এরপর ইয়োলো জোন ও গ্রীন জোন রাখা হয়েছে। তারেক রহমান যেন কথা বলার সুবিধার্থে মঞ্চের চারপাশে বিচরণ করতে পারে এজন্য সামনের বেশিরভাগ জায়গা খালি রাখা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং ১৬টি আসনের প্রার্থীরাই মঞ্চে থাকার কথা রয়েছে।
এছাড়াও নগরের টাইগারপাসের দ্বিতল সড়ক, আশেপাশে দেওয়ালগুলো নতুন রঙে সেজেছে। নগরের বড় বড় মোড়গুলোতে তারেক রহমানকে শুভ্চ্ছা জানিয়ে করা শোভা পাচ্ছে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তৈরি করা প্রার্থী ও নেতাদের বিলবোর্ড।
এদিকে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে চট্টগ্রাম নগরে উৎসবের আমেজ বইছে। সাংগঠনিক কাজ নিয়ে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদল, কৃষকদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি আমেজ। গতি পেয়েছে ভোটের প্রচারণায়ও। তাদের অনেকে নগরের আন্দরকিল্লা থেকে বিভিন্ন রঙের টিশার্ট ছাপাচ্ছেন। কেউ সেসব টিশার্ট সংগ্রহ করে নেতাকর্মীদের মাঝে বিলি করছেন। আবার কয়েকজন মিলে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ছবি যুক্ত বিশেষ ক্যাপ বানাচ্ছেন। কেউ ব্যস্ত প্ল্যাকার্ড, বিলবোর্ড নিয়ে। কেউ আবার কর্মীদের জন্য শরবত, পানি, খাবারের আয়োজন নিয়ে ব্যতিব্যস্ত।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম জানান, সব ওয়ার্ড, কলেজ থেকে আমাদের ১৫ হাজার নেতাকর্মী যোগ দেবে। এছাড়াও জেলার উপজেলাগুলোতে থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীরা আসবেন। আমরা বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও টিশার্ট ছাপিয়েছি। সবার মধ্যে বাড়তি আমজে কাজ করছে। চট্টগ্রামের প্রতি জিয়া পরিবারের বাড়তি আবেগ আছে। আমরাও প্রতিবার জিয়া পরিবারকে এই নগরীতে আন্তরিকতা দিয়ে বরণ করে নিই। এবার তার ব্যতয় ঘটবে না।
নগর বিএনপি সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান জানান, ১০ লাখ মানুষ সমাগম ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমাদের চারটি কমিটি সমাবেশ সফল করতে রাতদিন পরিশ্রম করছে। আমরা চাই এই সমাবেশকে স্মরণীয় করে রাখতে। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের দুই দশকের বেশি সময় পর চট্টগ্রামে আগমন। তাকে দেখতে মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে আজ উৎসবের হাওয়া বইছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্ব্বোচ্চ প্রস্তুতি
নগর পুলিশের মুখপাত্র (সহকারী পুলিশ কমিশনার-জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে আমাদের পক্ষ থেকে সর্ব্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনস্তরের নিরাপত্তা থাকবে। পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী থাকবে। শনিবার থেকেই আমাদের টহল শুরু হয়েছে। সমাবেশের ভেতরে সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মমকর্তারা থাকবেন। বিভিন্ন বহুলতল ভবন নজরে থাকবে। এছাড়াও সমাবেশ এলাকার আশেপাশে পরিস্থিতি বুঝে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে।