মে দিবসে শ্রমিকদের ছুটি না দেয়ার অভিযোগ
আমার দেশ অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত সংবাদের পর মে দিবসে শ্রমিকদের ছুটি না দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগে সীতাকুণ্ডে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম।
গত রোববার শ্রম অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের পরিচালক এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপপরিদর্শকের কাছে পৃথকভাবে চিঠি প্রেরণ করেন তিনি। চিঠিতে অভিযোগটির সত্যতা যাচাই করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে সীতাকুণ্ডের কেওয়াই স্টিল মিল খোলা রেখে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি আমার দেশ অনলাইন সংস্করণে “মে দিবসেও ছুটি মিলেনি স্টিল মিল শ্রমিকদের” শিরোনামে প্রকাশিত হলে প্রশাসনের নজরে আসে এবং তাৎক্ষণিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, শ্রম আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক ছুটি থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ছুটি না দিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যায়। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়ভাবে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস একটি স্বীকৃত সরকারি ছুটির দিন। এ দিনে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করাতে হলে নির্ধারিত বিধান অনুসরণ, বিকল্প ছুটি বা অতিরিক্ত মজুরি প্রদান বাধ্যতামূলক। অন্যথায় তা আইন লঙ্ঘনের শামিল।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ইউএনও’র প্রেরিত চিঠির অনুলিপি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি এবং শিল্প পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বলছেন, শুধুমাত্র তদন্ত নয়, দোষী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার সাহস না পায়।
এএস